)
Spain vs Argentina World Cup 2026 Final: ১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! ফাইনালের মেগা লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয় করল স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে মাত্র ১টি গোল হজম করে গড়ে ফেলল নতুন বিশ্বরেকর্ড! রইল গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ থেকে নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক ফাইনাল পর্যন্ত স্পেনের বিশ্বজয়ের গাথা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার ফুটবলের সর্বোচ্চ সিংহাসন দখল করল স্পেন। বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরল ‘লা রোখা’রা। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত টানটান উত্তেজনার ফাইনালে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা দূরদর্শী গোলটি স্পেনকে এনে দেয় এই ঐতিহাসিক জয়। এক নিখুঁত রক্ষণভাগ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্দান্ত দলগত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী দল হিসেবে শিরোপা জিতল স্পেন।
টুর্নামেন্টে স্পেনের বিজয়রথ: এক নজরে পুরো সফর
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের সফরটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং ধারাবাহিক। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত তাদের প্রতিটি ধাপের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
স্পেন ০ – ০ কেপ ভার্দে (গ্রুপ পর্ব): আতলান্তার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দেসের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল স্পেন। গোল না পেলেও এই ম্যাচের মাধ্যমেই টুর্নামেন্টের সেরা ক্লিন শিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
স্পেন ৪ – ০ সৌদি আরব (গ্রুপ পর্ব): দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় লা রোখা। লামিনে ইয়ামালের প্রথম গোলের পর মিকেল ওয়ারসাবাল জোড়া গোল করেন। ফলে সহজ জয়ে নকআউট পর্বের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
স্পেন ১ – ০ উরুগুয়ে (গ্রুপ পর্ব): উরুগুয়েকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে গ্রুপ ‘এইচ’ (Group H)-এর লড়াই শেষ করে স্পেন। পুরো গ্রুপ পর্বে তারা অপরাজিত থাকে এবং একটি গোলও হজম করেনি।
স্পেন ৩ – ০ অস্ট্রিয়া (শেষ ৩২): নকআউট পর্বের শুরুতেই অস্ট্রিয়াকে সহজেই ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় স্পেন। ওয়ারসাবালের জোড়া গোল এবং পেদ্রো পোরোর দুর্দান্ত ফিনিশিং দলকে শেষ ১৬-তে পৌঁছে দেয়।
স্পেন ১ – ০ পর্তুগাল (শেষ ১৬): ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে ইনজুরি টাইমে বদলি ফুটবলার মিকেল মেরিনোর ড্রামাটিক গোলে পর্তুগালকে বিদায় জানিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় স্পেন।
স্পেন ২ – ১ বেলজিয়াম (কোয়ার্টার ফাইনাল): এই টুর্নামেন্টে স্পেনকে একমাত্র গোল করতে পেরেছিল বেলজিয়াম। ফাবিয়ান রুইসের গোলে স্পেন এগিয়ে গেলেও চার্লস দে কেটেলেয়ার বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফের ত্রাতা হয়ে ওঠেন মেরিনো এবং তাঁর গোলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়।
স্পেন ২ – ০ ফ্রান্স (সেমিফাইনাল): ২০১০ সালের পর প্রথমবার ফাইনালের টিকিট পেতে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হয় স্পেন। ওয়ারসাবালের পেনাল্টি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরোর চমৎকার গোলে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে লা রোখা।
স্পেন ১ – ০ আর্জেন্টিনা (ফাইনাল): মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সংঘাত পৌঁছায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বেঞ্চ থেকে নামা ফেরান তোরেস টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করে স্পেনকে বিশ্বসেরা বানান।
রেকর্ডের পাতায় স্পেনের রক্ষণভাগ
স্পেনের এই বিশ্বজয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে তাদের রক্ষণভাগ। পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি ম্যাচ খেলে স্পেন হজম করেছে মাত্র ১টি গোল! কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস দে কেটেলেয়ার ছাড়া আর কোনো ফুটবলার স্পেনের রক্ষণে চির ধরাতে পারেননি।
এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম গোল হজম করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ল স্পেন। তারা ছাড়িয়ে গেল ২০১০ সালের স্পেন, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স এবং ২০০৬ সালের ইতালিকে (যারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ২টি করে গোল হজম করেছিল)। পাশাপাশি, এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭টি ‘ক্লিন শিট’ রাখার নতুন নজিরও তৈরি করল লা রোখা।
(Feed Source: zeenews.com)
