‘আমার অ্যাংজাইটি হচ্ছে…’: ছুটি মেলেনি, হোয়াটসঅ্যাপেই চাকরি ছাড়লেন কর্মী! ভাইরাল চ্যাট ঘিরে তুমুল বিতর্ক

‘আমার অ্যাংজাইটি হচ্ছে…’: ছুটি মেলেনি, হোয়াটসঅ্যাপেই চাকরি ছাড়লেন কর্মী! ভাইরাল চ্যাট ঘিরে তুমুল বিতর্ক

 

ম্যানেজার সেই ছুটির আবেদন খারিজ করে দেন। তিনি এটিকে “অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, অফিস শুরু হওয়ার অনেক পরে কর্মী তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এরপর কথোপকথন দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কর্মী সঙ্গে সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে জানান, তিনি আর এই প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না।

জবাবে ম্যানেজার সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চাকরি ছাড়লে কর্মীর ফুল অ্যান্ড ফাইনাল সেটেলমেন্ট (FNF) এবং এক্সপেরিয়েন্স লেটার বা অভিজ্ঞতার শংসাপত্রের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি মিটিয়ে নিতে কর্মী যদি অফিসে না আসেন, তবে তাঁকে ‘অ্যাবসকন্ডিং’ (অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগকারী) হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

 

এর উত্তরে কর্মী লেখেন, তিনি আর ফিরবেন না, কারণ তিনি এমন কোনও কর্মস্থলে কাজ করতে চান না, “যেখানে সহকর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়।”

এই কথোপকথনের স্ক্রিনশটগুলি LinkedIn-এ ভাইরাল হওয়ার পর মন্তব্যের ঘরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

অনেক ইউজারের মতে, এই বিতর্কের সঙ্গে জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের তেমন সম্পর্ক নেই; বরং বিষয়টি সহমর্মিতা (Empathy) এবং যোগাযোগের ধরন নিয়ে।

একজন মন্তব্য করেন, “এই আলোচনা জেন জি-কে নিয়ে নয়। এটি আসলে এই প্রশ্ন নিয়ে যে, প্রতিষ্ঠানগুলি কি শুধু আনুগত্য চায়, নাকি সৎ ও খোলামেলা যোগাযোগকে গুরুত্ব দেয়? প্রত্যেক প্রজন্মই সম্মান চায়। পার্থক্য শুধু এতটাই যে, সম্মান না পেলে জেন জি সহজেই সেই কর্মস্থল ছেড়ে চলে যেতে প্রস্তুত।”

অন্যদিকে, অনেকের মত ছিল যে এই পরিস্থিতির জন্য কর্মীও সমানভাবে দায়ী। একজন LinkedIn ব্যবহারকারী লেখেন, “এটিকে জেন জি-র আচরণ বলে সাধারণীকরণ বা ন্যায্যতা দেওয়া ঠিক হবে না। এই ঘটনাটি আসলে দেখায় যে, দুই পক্ষেরই সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধের ঘাটতি ছিল।”

তিনি আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কিন্তু কর্মদিবস শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে নিয়োগকর্তাকে ছুটির কথা জানানোও অপেশাদার আচরণ। একাধিক মন্তব্যে একই ধরনের মত প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মতে, ছুটির আবেদনের সময়টাই ছিল আসল সমস্যা।

একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “পা ভেঙে যাক বা অ্যাংজাইটি—সকাল ৯টার চাকরির জন্য সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে জানানো নিঃসন্দেহে অপেশাদার আচরণ।”

তুলনা টেনে তিনি আরও বলেন, কোনও পরিষেবা প্রদানকারী যদি অ্যাংজাইটির কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরে এসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেন, তাহলে গ্রাহকরা কি সেই একই ব্যাখ্যা সহজভাবে মেনে নেবেন? অনেকেই এ-ও সতর্ক করেন যে, কর্মক্ষেত্রে পেশাগত শিষ্টাচারের অভাবকে ন্যায্যতা দিতে অ্যাংজাইটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

একজন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী মন্তব্য করেন, “সহমর্মিতা দুই দিক থেকেই হওয়া উচিত। যদি কোনও কর্মী ভদ্র ও সহানুভূতিশীল পেশাদার আচরণ আশা করেন, তবে তাঁরও ন্যূনতম ভদ্রতা এবং পেশাগত নীতিবোধ থাকা প্রয়োজন।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অ্যাংজাইটি একটি বাস্তব মানসিক সমস্যা, তবে সেটিকে অযৌক্তিক দাবি বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার মানসিকতার (Entitlement) সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

অন্যদিকে, এই বিতর্কে অনেকেরই মত, ম্যানেজারের প্রতিক্রিয়া কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান বিষাক্ত (Toxic) সংস্কৃতির একটি বড় সমস্যার প্রতিফলন।

(Feed Source: news18.com)