)
Stock Market Crash: ন্যাটো সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির সমঝোতা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। তিনি এই চুক্তিকে ‘বাতিল’ ঘোষণা করার পাশাপাশি ইরানি নেতাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা। বুধবার বড় ধসের সাক্ষী হল ভারতীয় শেয়ার বাজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে মধ্যবর্তী যুদ্ধবিরতির চুক্তি ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করতেই বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে ভারতের শেয়ার বাজারে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ একধাক্কায় উধাও হয়ে গেছে।
এদিনের লেনদেন শেষে মুম্বই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৬৭৭ পয়েন্ট বা ২ শতাংশের বেশি পড়ে ৭৬,৫০৩.৬০ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি-৫০– ৫১৭ পয়েন্টের পতন নিয়ে ২৩,৮৮২.০৫ পয়েন্টে এসে থিতু হয়েছে। এই নজিরবিহীন পতনের জেরে বিএসই (BSE)-তে যে সংস্থাগুলি আছে তার মোট বাজার মূলধন কমে ৪৭১ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
কেন এই আকস্মিক ধস?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে মূল কারণগুলো:
১. ট্রাম্পের বিস্ফোরক ঘোষণা: ন্যাটো সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির সমঝোতা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। তিনি এই চুক্তিকে ‘বাতিল’ ঘোষণা করার পাশাপাশি ইরানি নেতাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়, যা লগ্নিকারীদের বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা কমিয়ে দেয়।
২. হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেল: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মেঘ দানা বাঁধতেই বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭৮.০৯ ডলারে পৌঁছে গেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় এই মূল্যবৃদ্ধি। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ আমদানি করে, তাই তেলের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতি এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর তার সরাসরি কুপ্রভাব পড়ে।
৩. বিশ্ব বাজারের নেতিবাচক প্রভাব: শুধু ভারত নয়, ট্রাম্পের এই বার্তার পর বিশ্ব জুড়ে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। ইউরোপের প্রধান বাজার যেমন যুক্তরাজ্যের FTSE 100, ফ্রান্সের CAC 40 এবং জার্মানির DAX সূচক প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত মার খেয়েছে। এশিয়ায় জাপানের নিক্কেই ১.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক একধাক্কায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। মার্কিন ওয়াল স্ট্রিটের ডাও জোনস ফিউচার্সও বড় পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৪. বন্ডের রিটার্ন ও টাকার মূল্য কমে যাওয়া: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে মার্কিন ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের রিটার্ন বা ইল্ড বেড়ে ৪.৫৬৫ শতাংশ হয়েছে। বন্ডের রিটার্ন বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে বন্ডে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম কমে গিয়েছে। এদিন প্রতি ডলারের তুলনায় টাকার মূল্য ৯৫.৫০ গণ্ডি পার করে আরও দুর্বল হয়েছে।
বাজারের এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং এফএমসিজি (FMCG), এবং তেল ও গ্যাস খাতের শেয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। নিফটি ব্যাংক ও নিফটি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সূচক ২ শতাংশের বেশি নিচে নেমে গেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের জুলাই মাসের নীতির ওপর নজর রেখেই শেয়ার বাজার তার পরবর্তী পথ বেছে নেবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
