)
US Saudi Nuclear Deal: সৌদি আরবের সঙ্গে একটি অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যার আওতায় ভবিষ্যতে নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ পেতে পারে সৌদি আরব।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব তার অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অধীনে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে। আরবের দিক থেকে এটি খুবই বড় একটি অগ্রগতি। যদিও চুক্তিটি এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে।
মার্কিনি হাতে দায়িত্ব
প্রাথমিকভাবে এর আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল সৌদি আরবের পারমাণবিক পরিকাঠামো নির্মাণের সার্বিক দায়িত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ে আসা। এটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে অন্যান্য বিদেশি প্রতিযোগী দেশি কোম্পানিগুলি এই দৌড় থেকে বাদ পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের এক যৌথ সমীক্ষা শেষে সৌদি আরবে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
সৌদির কূটনৈতিক জয়
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি সৌদি আরবের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়, যা তাদের নতুন প্রযুক্তির দুয়ার খুলে দেবে। পাশাপাশি এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও কোম্পানিগুলির জন্য আনবে বিপুল মুনাফা। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এ ধরনের পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ ও নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়াতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’
চুক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারা অনুযায়ী একটি ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’। এ ধরনের চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশের মধ্যে অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। বর্তমানে ৫১টি সরকার ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে এ ধরনের ২৬টি চুক্তি রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। প্রসঙ্গত, প্রস্তাবিত চুক্তিতে তথাকথিত গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড রাখা হয়নি। ওই শর্ত থাকলে সৌদি আরব নিজের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করতে পারত না– যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাইডেন প্রশাসন থেকে ট্রাম্প প্রশাসনে
জো বাইডেন প্রশাসনের সময় সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির আলোচনা হলেও সেটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন এবার ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্ত থেকে পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টি আলাদা করেছে। এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের কিছু আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে ভবিষ্যতে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। উদ্বেগের আরেকটি কারণ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে তাহলে সৌদি আরবও তা করবে।
(Feed Source: zeenews.com)
