)
সাধারণ মানুষের ওপর মারধর থেকে শুরু করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ— সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক বিস্ফোরক পোস্টে সরব গায়ক অরিজিৎ সিং! “বাংলায় কিছু বললেই নাকি জেল?”— দলবাজদের কড়া বার্তা দিয়ে ঠিক কী কী লিখলেন অরিজিৎ? ভক্তদের ক্ষোভের মুখেই বা কীভাবে সামলালেন পরিস্থিতি?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গায়ক অরিজিৎ সিং তাঁর দুর্দান্ত কণ্ঠের পাশাপাশি সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয়ে নিজের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির জন্যও পরিচিত। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিল্লিতে পড়ুয়াদের আন্দোলন, পুলিস প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া হিংসা নিয়ে একগুচ্ছ পোস্ট করেছেন সংগীতশিল্পী। অরিজিতের এই পোস্টগুলিকে কেন্দ্র করে নেটপাড়ায় যেমন চরম তর্ক-বিতর্ক ও অনুরাগীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, তেমনই ক্ষোভ আর ভালোবাসার এক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সমস্যার সূত্রপাত অরিজিতের একটি প্রাথমিক পোস্ট দিয়ে, যেখানে তিনি ইউনিফর্ম পরা মানুষদের (পুলিস প্রশাসন) আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সেই পোস্টের জবাবে এক অনুরাগী জানান, এই ধরনের মন্তব্যে অরিজিতের প্রতি তাঁর সমস্ত শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে গেছে। উত্তরে অত্যন্ত শান্ত অথচ স্পষ্টভাষায় অরিজিৎ লেখেন যে, তিনি কারও মতামত নিয়ে চিন্তিত নন এবং নিজের কোনো ভক্তকে তোষামোদ করতে তিনি বাধ্য নন। তবে একজন মানুষ হিসেবে কারোর অনুভূতিতে আঘাত লাগলে তিনি ক্ষমা চান এবং অনুরাগী চাইলে তাঁর সব গান মুছে ফেলতে পারেন।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন
পরবর্তী পোস্টগুলিতে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন শিল্পী। তিনি স্পষ্ট জানান যে, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা সিজেপি (CJP)-কে সমর্থন করেন না। তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল— কেন পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই প্রশাসনিক স্তরে সমাধান খোঁজা হল না? অরিজিতের বক্তব্য, যেকোনও বড় আন্দোলনে সুযোগসন্ধানীরা ঢুকে পড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। সেই আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই সাধারণ নাগরিক ও আন্দোলনকারীদের একাংশকে অযথা মার খেতে হল।
পরবর্তীতে তিনি পুলিসকে একপেশে নিশানা করার বক্তব্য থেকে সরে এসে নিজের শব্দ পরিবর্তন করেন এবং জানান যে, পুলিস কেবল নিজেদের দায়িত্ব পালন করছিল। কিন্তু অহিংস শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষদের ওপর এমন বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বাঙালির ঐতিহ্য ও সচেতনতার কথা স্মরণ করিয়ে অরিজিৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র, স্বামীজি থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায়ের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি সকলকে চোখ খোলা রাখার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সবচেয়ে বড় শোরগোল তৈরি করেছে তাঁর শেষ কয়েকটি কড়া পোস্ট। দলবাজদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি লেখেন— সাধারণ মানুষ সুযোগ দিয়েছিল বলেই অনেকে ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। পাশাপাশি “বাংলায় কিছু বললেই নাকি জেল হচ্ছে?”— এমন খবর নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি শাসক ও রাজনৈতিক শিবিরকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিজিতের এই নিরপেক্ষ ও প্রতিবাদী ভূমিকা ব্যাপকভাবে চর্চিত হচ্ছে। অনুরাগীদের একটি বড় অংশ তাঁর এই সত্যবাদিতার প্রশংসা করলেও, অন্য অংশ এই মন্তব্যগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানান সমীকরণ মেলাতে শুরু করেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
