)
Sensex Fall: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও খনিজ তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা স্বল্পমেয়াদে বজায় থাকতে পারে। তবে অটোমোবাইল খাতের কোম্পানির প্রথম ত্রৈমাসিকের (Q1) ভালো ফলাফল বাজারকে কিছুটা হলেও সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এসে বড় পতনের মুখে পড়ল দেশের শেয়ার বাজার। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত খনিজ তেলের (Crude Oil) আন্তর্জাতিক দাম প্রতি ব্যারেলে ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) লেনদেন শেষে বিএসই সেনসেক্স (BSE Sensex) ৭১৫ পয়েন্টের বেশি পড়ে গেছে এবং এনএসই নিফটি ৫০ (Nifty 50) গুরুত্বপূর্ণ ২৪,০০০ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক মনস্তাত্ত্বিক স্তরের নিচে নেমে বন্ধ হয়েছে।
আজ লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে বিক্রির চাপ বা সেল অফ (Selling Pressure) দেখা যায়। দিনশেষে সূচকগুলোর চিত্র ছিল নিম্নরূপ
BSE সেনসেক্স– ৭৬,৭৫৫.০৫ ছিল
পতন– ৭১৫.০৬
শতাশ -০.৯২%
NIFTY– ২৩,৯৯৬.২৫
পতন– ১৯১.৪৫
শতাংশ- ০.৭৯%
দিনের লেনদেন চলাকালীন একপর্যায়ে সেনসেক্স ৭৬,৬৪১.১৯ পয়েন্টের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ দিনের সর্বনিম্ন ২৩,৯৭৯.৭০ পয়েন্ট স্পর্শ করে।
শেয়ার বাজারে পতনের প্রধান কারণ কী কী
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া কারণ আজকের মূল্যসূচক পতনের পেছনে কাজ করেছে:
১. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
২. খনিজ তেলের দামে লাফ: অপরিশোধিত বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়।
৩. টাকার মানের অবমূল্যায়ন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর আরও কমে ৯৬.৩৪-এ নেমে এসেছে।
৪. চতুর্থাংশের ফলাফল ও শেয়ার নির্দিষ্ট প্রভাব: ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজ (DRL), সিপলা এবং সান ফার্মার মতো প্রধান ফার্মাসিউটিক্যালস শেয়ারগুলোতে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।
কোন কোন শেয়ার লাভ ও ক্ষতির মুখে?
আজকের লেনদেনে নিফটির ফার্মা ও পিএসইউ ব্যাংক সূচকগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে অটো ও এফএমসিজি খাতের বেশ কিছু শেয়ার কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে।
লাভের মুখ দেখেছে (Top Gainers): বাজাজ অটো, ওএনজিসি (ONGC), মারুতি সুজুকি, হিন্দালকো এবং নেসলে ইন্ডিয়া (Nestle India)।
ক্ষতির মুখে পড়েছে (Top Losers): ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন (IndiGo), ডক্টর রেড্ডিস ল্যাব (Dr Reddy’s Labs), সিপলা, ম্যাক্স হেলথকেয়ার এবং সান ফার্মা।
তৈল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান যেমন বিপিসিএল (BPCL) ও এইচপিসিএল (HPCL)-এর শেয়ারেও অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেখা গেছে। এছাড়া বন্ধন ব্যাংকের শেয়ারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা:
বৈশ্বিক অস্থিরতা ও খনিজ তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা স্বল্পমেয়াদে বজায় থাকতে পারে। তবে অটোমোবাইল খাতের কোম্পানির প্রথম ত্রৈমাসিকের (Q1) ভালো ফলাফল বাজারকে কিছুটা হলেও সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
(Feed Source: zeenews.com)
