Bengaluru triple murder: মানবকল্যাণ ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রযুক্তিকে অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে বেঙ্গালুরুতে। নিজের বাবা-মা এবং ছোট বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করতে এক তরুণী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটের পরামর্শ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনা শুধু স্থানীয় এলাকাতেই নয়, গোটা দেশজুড়েই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিজের বাবা-মা ও বোনকে হত্যার অভিযোগ আইটি কর্মীর বিরুদ্ধে (Photo: Collected)
বেঙ্গালুরুর ২৫ বছর বয়সি এক প্রযুক্তিকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি তাঁর লিভ-ইন সঙ্গিনীর বাবা-মা ও বোনকে হত্যার আগে কয়েক মাস ধরে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চ্যাটবটের সাহায্য নিয়েছিলেন।
কেআর পুরম থানার পুলিশ কেনেথ এবং তাঁর ২৫ বছর বয়সি সঙ্গিনী শ্বেতা সোমসুন্দরকে গ্রেফতার করেছে। শ্বেতার মা মুত্থুলক্ষ্মী এস (৪৮), বাবা সোমসুন্দর (৫৪) এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া (২০)-কে হত্যার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ জুন সন্ধ্যায় কেআর পুরমের সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে, যেখানে কেনেথ ও শ্বেতা একসঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে বসবাস করছিলেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা পরিকল্পনায় এআই টুলটি কেনেথকে বিভিন্নভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। পুলিশের সূত্রের দাবি, এই এআই টুলটি কার্যত অপরাধে একজন ‘সহযোগী’-র মতো ভূমিকা পালন করেছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনা প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব জীবনের সামাজিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে চরম সামাজিক একাকীত্বের বিপজ্জনক দিক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
EENADU-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেঙ্গালুরু শহরের সীগেহাল্লি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে সোমসুন্দর (৫২), তাঁর স্ত্রী মুত্থুলক্ষ্মী (৪৮) এবং তাঁদের ছোট মেয়ে সুপ্রিয়া (১৯)-কে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে পুলিশ গভীর তদন্ত শুরু করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সোমসুন্দরের বড় মেয়ে শ্বেতা এবং তাঁর প্রেমিক কেনেথ পরিকল্পিতভাবে এই তিনজনকে হত্যা করেছে।
AI Chatbot থেকে খুনের কৌশল শিখেছিল অভিযুক্তরা:
শ্বেতা একটি আইটি সংস্থায় কর্মরত হওয়ায় প্রযুক্তি সম্পর্কে তাঁর ভাল জ্ঞান ছিল। সেই জ্ঞানই তিনি অপরাধে কাজে লাগিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েক দিন ধরে শ্বেতা ও কেনেথ একটি এআই চ্যাটবট ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন। কীভাবে কাউকে সন্দেহের উদ্রেক না করে হত্যা করা যায়? কীভাবে কোনও প্রমাণ না রেখে খুন করা সম্ভব?—এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর তারা চ্যাটবট থেকে জেনে নিয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ছয় মাস ধরে তারা পরিকল্পনা করে এবং জেরার সময় অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে, চ্যাটবটের দেওয়া পরামর্শই তারা অন্ধভাবে অনুসরণ করেছিল।
এআই সংস্থাকে পুলিশের চিঠি:
অভিযুক্তরা কীভাবে এআই প্রযুক্তিকে অপরাধে ব্যবহার করেছে, তার ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহে তদন্তকারীরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। শ্বেতা ও কেনেথ চ্যাটবটে কী কী প্রশ্ন করেছিলেন এবং তার কী কী উত্তর পেয়েছিলেন, সেই তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট এআই টুল পরিচালনাকারী সংস্থাকে পুলিশ চিঠি পাঠিয়েছে। কেআর পুরম থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই সংস্থার সরবরাহ করা লগ এবং ডিজিটাল ডেটাকে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে প্রযুক্তি যেমন মানুষের উপকারে আসতে পারে, তেমনই যথাযথ নজরদারি না থাকলে তা অপরাধীদের হাতেও বিপজ্জনক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
(Feed Source: news18.com)