)
নেটিজেনরা কেবল নৈমিষার অ্যাকাউন্টেই থেমে থাকেননি। তাঁরা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও নানা মন্তব্য করেছেন। সেখানে তাঁর বিদেশে পড়াশোনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি করা হয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি-সহ গোটা দেশ। প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ডাকা যন্তর মন্তরের ধরনা কর্মসূচি প্রতিদিন নতুন রূপ নিচ্ছে। আন্দোলনের ২৫ তম দিনে পা দিয়েও অনশনে অবিচল সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি না মেটা পর্যন্ত যন্তর মন্তর ছাড়ছেন না তাঁরা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা।
এই আবহেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মেয়ে নৈমিষা তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি বিষয়টি মন্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিবারের দিকে গড়ালে নৈমিষা এই সিদ্ধান্ত নেন। জানা গিয়েছে, নেটিজেনরা নৈমিষা প্রধানের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি খুঁজে বের করেন। এরপর তাঁর বিভিন্ন পোস্টের কমেন্ট বক্সে সমালোচনার ঝড় তোলে তাঁরা। বাবা দেশের শিক্ষামন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন বিদেশে পড়তে গেলেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে ধর্মেন্দ্র প্রধানের মেয়ের কোনো অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই।
শুধু নৈমিষার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেই নয়, তিনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন সেই টাফটস ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। সেখানে তাঁর বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সংসদ ভবন অভিযানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিসের লাঠিচার্জের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার দাবি করছেন।
নৈমিষা প্রধান ২০২৩ সালে আমেরিকার টাফটস ইউনিভার্সিটির ‘দ্য ফ্লেচার স্কুল’ থেকে আইনের স্নাতকোত্তর (LLM) ডিগ্রি পান। এরপর তিনি ‘ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম’ (USISPF)-এ সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ শুরু করেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর নিজের মেয়ে বিদেশে পড়লে বোঝা যায় যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর তাঁদের নিজেদেরই ভরসা নেই।
তবে অনেকেই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আক্রমণের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে, নৈমিষা কোনো সরকারি পদে নেই। তাই রাজনীতি বা নীতি সংক্রান্ত অনিয়মের দায় তাঁর ওপর চাপানো ঠিক নয়। রাজনৈতিক সমালোচনা কেবল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
পরীক্ষা বিতর্ক নিয়ে বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করছে এবং সংসদে অনর্থক ঝামেলা তৈরি করছে। এই ঘটনার ফলে নেটপাড়ায় সমালোচনার সীমা কত অবধি থাকা উচিত, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত নন এমন পরিবারের সদস্যদের অনলাইনে হেনস্থা করা বা ট্রোল করা একেবারেই অনুচিত।
(Feed Source: zeenews.com)
