
দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় আগামী সাত দিন আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে এক বা একাধিক দফায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২২ ও ২৩ জুলাই কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। এর পাশাপাশি বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি আরও জোরদার হয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি অক্ষরেখা (Monsoon Trough) বিকানের, বরকুঁই, বিদিশা, ছত্তিশগড়ের পেন্ড্রা রোড ও ঝাড়সুগুড়ার উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়াও উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩.১ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
অন্যদিকে, প্রায় ১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ বরাবর একটি পূর্ব-পশ্চিম শিয়ার জোন (East-West Shear Zone) সক্রিয় রয়েছে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ থেকে ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে এবং উচ্চতার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হেলে রয়েছে।
মৌসুমি অক্ষরেখা (Monsoon Trough), উত্তর বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত এবং পূর্ব-পশ্চিম শিয়ার জোন সক্রিয় থাকায় আগামী তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া এবং বিচ্ছিন্নভাবে ৭–১১ সেমি পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে প্রথম দিনে বেশি জেলায় হলুদ সতর্কতা থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি অক্ষরেখা, ঘূর্ণাবর্ত এবং শিয়ার জোন—এই তিনটি আবহাওয়াগত ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে।
(Feed Source: abplive.com)
