)
Durand Cup 2026: আগামী ২৫ জুলাই থেকে ২৩ অগাস্ট পর্যন্ত কলকাতা, রাঁচি, গুয়াহাটি, শিলং এবং ইম্ফলে অনুষ্ঠিত হবে এবারের টুর্নামেন্ট। শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল-সহ মোট ২৪টি দল ৬টি ভেন্যুতে মোট ৪৩টি ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হবে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফুটবল-পাগল শহর কলকাতায় এসে পৌঁছল ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের ঐতিহ্যবাহী ট্রফি। আগামী ২৫ জুলাই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে পাঁচ রাজ্যের মেগা ‘ট্রফি ট্যুর’ শেষ হল বুধবার, ফোর্ট উইলিয়ামে| ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরের এওআই বিজয় দুর্গে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে ট্রফিগুলি প্রদর্শিত হয়, আর সেই সঙ্গেই শহরে ফুটবল মহাযুদ্ধের দামামা বেজে গেল।
এদিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী ডঃ ইন্দ্রনীল খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ এবং ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গম্ভীর সিং, রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ, ক্রীড়া ও সমবায় দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শ্রী রাজেশ পাণ্ডে, বেঙ্গল সাব এরিয়ার জিওসি এবং আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল দীনেশ কুমার সিং সহ- সেনা ও প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক এবং ফুটবল জগতের বিশিষ্টজনেরা।
ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল-সহ এবারের ডুরান্ড কাপের ১৬টি ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পেয়ে কলকাতা সত্যিই গর্বিত। আমাদের রাজ্যের প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে এটি অত্যন্ত সম্মানের। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগালের জন্য গলা ফাটিয়েছি, এবার ভারতীয় ফুটবল ও ফুটবলারদের জন্য গলা ফাটান। এবার সময় এসেছে একজোট হয়ে ভারতীয় ফুটবল এবং আমাদের নিজেদের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানোর। আমি সমস্ত ফুটবল-পাগল দর্শকদের কাছে আবেদন করব, প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত আপনারা গ্যালারি ভরিয়ে তুলুন, কারণ গ্যালারির অটুট সমর্থনের চেয়ে বড় কোনও অনুপ্রেরণা খেলোয়াড়দের কাছে হতে পারে না।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশিষ্টজনদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর অডিও-ভিস্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ডুরান্ড কাপের গৌরবময় ইতিহাস এবং রাষ্ট্রপতি ভবনে ট্রফি উন্মোচনের ঝলক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বলিউড অভিনেতা জন আব্রাহামের একটি বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তাও শোনানো হয়।

ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গম্ভীর সিং বলেন, “ভারতীয় সেনার কাছে ডুরান্ড কাপ অত্যন্ত আবেগের একটি স্পোর্টিং ইভেন্ট এবং সেনা-নাগরিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০১৯ সাল থেকে কলকাতা এই টুর্নামেন্টের প্রধান আয়োজক শহর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, কারণ এই শহরে ফুটবল শুধু একটা খেলা নয়, একটা জীবনযাত্রা।”
রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শ্রী রাজেশ পাণ্ডে বলেন, “ডুরান্ড কাপের উত্তরাধিকার সত্যিই অনন্য। মেগা ‘কলকাতা ডার্বি’ দিয়ে এই টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে ভেবে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমি নিশ্চিত, গোটা রাজ্যের ফুটবলপ্রেমীরা এই মহারণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্ট সফল করতে ভারতীয় সেনার পাশে থাকতে পেরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গর্বিত।”
নজর এবার ২৫ জুলাইয়ের মেগা ডার্বিতে! ২০১৯ সালে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর থেকে কলকাতা বরাবরই ডুরান্ড কাপের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আগামী শনিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রেকর্ড ১৭ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল এফসির মধ্যে আইকনিক কলকাতা ডার্বি দিয়ে ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের মহাযুদ্ধ শুরু হচ্ছে।
ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল দীনেশ কুমার সিং জানান, ২০৩২ সাল পর্যন্ত ইস্টার্ন কমান্ডের অধীনে ডুরান্ড কাপের মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়া সবার জন্য অত্যন্ত গর্বের। ১৮৮৮ সালে শুরু হওয়া ডুরান্ড কাপ বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম চলমান ফুটবল প্রতিযোগিতা।
আগামী ২৫ জুলাই থেকে ২৩ অগাস্ট পর্যন্ত কলকাতা, রাঁচি, গুয়াহাটি, শিলং এবং ইম্ফলে অনুষ্ঠিত হবে এবারের টুর্নামেন্ট। শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল-সহ মোট ২৪টি দল ৬টি ভেন্যুতে মোট ৪৩টি ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হবে।
গ্রুপ এ: এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে রয়েছে সাউথ ইউনাইটেড এফসি এবং সিআইএসএফ প্রোটেক্টরস।
গ্রুপ বি: অন্যদিকে এই গ্রুপে লড়বে মহামেডান এসসি, ইন্ডিয়ান আর্মি ফুটবল টিম, বাগপত এফসি এবং সমলেশ্বরী স্পোর্টিং।
গ্রুপ পর্বের পাশাপাশি একটি কোয়ার্টার ফাইনাল, একটি সেমিফাইনাল এবং ২৩ অগাস্টের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে তিলোত্তমায়
(Feed Source: zeenews.com)
