
Uttam Kumar Death Anniversary: আজ ২৪ জুলাই। মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবস। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন অভিনেতা আর দ্বিতীয়জন আসেননি। ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে ‘আমানুষ’ ছবির শ্যুটিংয়ের জন্য দীর্ঘদিন সন্দেশখালিতে ছিলেন মহানায়ক। আজও তাঁর জনপ্রিয়তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমানভাবে বেঁচে আছে।

বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রয়াণের এত বছর পরেও তাঁর স্মৃতি আজও জড়িয়ে আছে সুন্দরবনের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ভাঙাতুষখালি ও আশপাশের এলাকায় আজও প্রবীণদের মুখে ফিরে ফিরে আসে সেই দিনগুলোর গল্প। নতুন প্রজন্মও সেই স্মৃতির উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। তাঁদের কাছে উত্তমকুমার শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি গ্রামেরই এক আপন মানুষ।

১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে ‘আমানুষ’ ছবির শ্যুটিংয়ের জন্য দীর্ঘদিন সন্দেশখালিতে ছিলেন মহানায়ক। রায়মঙ্গল নদীর তীর, বড় কলাগাছিয়া, রামপুর নদীর পাড়— গোটা এলাকা যেন তখন এক বিশাল সিনেমার সেটে পরিণত হয়েছিল। শ্যুটিংয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাতেন। নিরাপত্তার কড়াকড়ি তেমন ছিল না, ফলে সাধারণ মানুষ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁদের প্রিয় নায়ককে।

শ্যুটিংয়ের ফাঁকে গ্রামের মানুষদের সঙ্গে অকপটে গল্প করতেন উত্তমকুমার। কারও দুঃখের কথা শুনে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিতেন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর ব্যবহারেই বোঝা যেত তিনি কতটা সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তাই আজও গ্রামের প্রবীণদের স্মৃতিতে তিনি শুধু পর্দার নায়ক নন, একজন বড় মনের মানুষ হিসেবেই জায়গা করে আছেন।

‘আমানুষ’ ছবির জন্য ভাঙাতুষখালিতে তৈরি হয়েছিল প্রায় ৪০টি কাঠের ঘর, বাজার, স্কুল, থানা, জমিদারবাড়ি এবং রাধাগোবিন্দের মন্দির। মহানায়কের থাকার জন্যও তৈরি হয়েছিল একটি কাঠের বাংলো। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেই সময়ের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আজও সন্ধ্যা নামলে মন্দিরের সামনে অনেক গ্রামবাসী প্রদীপ জ্বালান। তাঁদের কাছে এটি শুধুই একটি রীতি নয়, মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার প্রকাশ।

গ্রামের প্রবীণদের কথায়, ভোরবেলা নদীর ধারে খালি পায়ে হাঁটতে বেরতেন উত্তমকুমার। কখনও নদীর পাড়ে বসে বই পড়তেন, আবার দুপুরে ইউনিটের সবার সঙ্গে বসে খাওয়ার সময় সিনেমা নিয়ে আলোচনা করতেন একেবারে সাধারণ মানুষের মতো। তাঁর এই সহজ জীবনযাপন আজও মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলে রেখেছে। পরে ‘আনন্দ আশ্রম’ ও ‘জাল সন্ন্যাসী’ ছবির শ্যুটিংয়েও তিনি আবার সন্দেশখালিতে ফিরে এসেছিলেন। সেই সময় বসিরহাটের বিখ্যাত কাচাগোল্লার স্বাদও তাঁর খুব প্রিয় হয়ে উঠেছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

প্রতি বছর তাঁর প্রয়াণ দিবসে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে সেই সোনালি দিনের স্মৃতিচারণ করেন। প্রবীণরা নতুন প্রজন্মকে শোনান মহানায়ককে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা। আজও গ্রামের পথে কোনও বাইরের মানুষ এলে অনেকেই গর্ব করে বলেন, “এই গ্রামেই একসময় ‘আমানুষ’-এর শ্যুটিং হয়েছিল, এই মাটিতেই হেঁটেছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার।” সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু সন্দেশখালির মানুষের হৃদয়ে মহানায়কের প্রতি ভালবাসা ও আবেগ আজও একটুও ম্লান হয়নি।
(Feed Source: news18.com)
