)
Himachal Pradesh landslide: দুর্ঘটনাটি ঘটেছে চাম্বা জেলার পাঙ্গি উপত্যকার কিলাড়-উদয়পুর মহাসড়কের ‘কড়ু নালা’ (Kadu Nalla) এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল বর্ষণের কারণে উদয়পুর-কিলার পথটিতে ব্যপক ধস নামায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার ভোরের দিকে সড়ক পরিষ্কার করে যাতায়াত করা হয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রকৃতির রুদ্ররূপে ফের কেঁপে উঠল হিমাচল প্রদেশ। চম্বা ও লাহাউল-স্পিতির সীমান্তবর্তী বিপদসংকুল পাহাড়ি পথে আচমকা পাহাড় থেকে ধসে পড়া সুবিশাল পাথরের চাঁপ (বোল্ডার) নিমেষে পিষে দিল একটি যাত্রীবাহী টাটা সুমো গাড়িকে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ছয় মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে জীবন ফিরে পেয়েছেন দুই যাত্রী। একই দিনে রাজ্যের মান্ডিতে ঘটা আরও একটি ধসের ঘটনায় প্রাণ গেছে এক মহিলার। ঘন ঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে রাজ্য প্রশাসন ও হিমাচল প্রদেশ পুলিস সমগ্র পাহাড়ি অঞ্চলে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের ওপর একাধিক কড়া নিষেধাজ্ঞা ও বিশেষ ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ জারি করেছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে চাম্বা জেলার পাঙ্গি উপত্যকার কিলাড়-উদয়পুর মহাসড়কের ‘কড়ু নালা’ (Kadu Nalla) এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল বর্ষণের কারণে উদয়পুর-কিলার পথটিতে ব্যপক ধস নামায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার ভোরের দিকে সড়ক পরিষ্কার করে যাতায়াত করা হয়।
১৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি টাটা সুমো ট্যাক্সি (HP-01M-2210) টিন্ডি এলাকায় সারারাত আটকে থাকার পর সকালের দিকে পাঙ্গি অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু কাডু নালার কাছাকাছি পৌঁছনো মাত্রই পাহাড়ের ওপরের এক বিশাল অংশ ভেঙে হুড়মুড়িয়ে রাস্তার ওপর আছড়ে পড়ে। পাহাড়ি বোল্ডারের প্রচণ্ড আঘাতে চলন্ত সুমো গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং যাত্রীরা ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে পড়েন।
উদ্ধার অভিযান
ঘটনার আকস্মিকতায় কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিস এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাহাড়ের বিশাল পাথরের চাঁপ সরাতে দ্রুত মোতায়েন করা হয় ভারী বুলডোজার ও জেসিবি (JCB) মেশিন।
ভরমৌর এলাকার বিধায়ক ড. জনক রাজ নিজে দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে মারাত্মক আহত অবস্থায় এক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায় এবং অপর এক যাত্রী কোনওমতে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন। বিধায়ক জনক রাজ জানান, নিহতদের অধিকাংশই পাঙ্গি উপত্যকার স্থানীয় অধিবাসী। তিনি চম্বা ও লাহাউল-স্পিতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং দ্রুত সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মান্ডিতেও প্রাণহানি
একই দিনে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার জোগিন্দরনগর মহকুমার গুমা এলাকাতেও একটি বড়সড় ধসের ঘটনা ঘটে। সেখানেও পথচলতি যাত্রীদের ওপর হঠাৎ পাহাড়ি পাথর খসে পড়ায় ঘটনাস্থলেই এক মহিলার মৃত্যু হয় এবং তাঁর পরিবারের আরও সাতজন সদস্য গুরুতর আহত হন।
বর্ষার শুরু থেকেই হিমাচলের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক ধস (Landslides) এবং হড়পা বানের (Flash Floods) মতো ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
জারি নতুন ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি
পর পর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (HPSDMA) এবং হিমাচল প্রদেশ পুলিশের তরফে পর্যটক ও সর্বসাধারণের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে:
১. সূর্যাস্তের পর যাতায়াত নিষিদ্ধ: অন্ধকার ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ধসের ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায় এবং উদ্ধারকাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সূর্যাস্তের পর পাহাড়ি রুটে গাড়ি চালানো বা যেকোনো সফর সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. ‘ফটো ও রিলস’ তোলায় নিষেধাজ্ঞা: পাহাড়ের নিচে ধসপ্রবণ বা যেখানে ‘Shooting Stones’ বোর্ড লাগানো রয়েছে, সেখানে গাড়ি পার্কিং করা, নামা কিংবা ছবি বা রিলস বানানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. জরুরি হেল্পলাইন ও ডিজিটাল আপডেট: ভ্রমণকারীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা সচল হেল্পলাইন 112 চালু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হিমাচল পুলিশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে দেওয়া ‘রিয়েল-টাইম’ ট্রাফিক আপডেট দেখেই যাত্রীদের পথ চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৪. নদী ও ঝরনার তীরে না যাওয়া: জলস্ফীতি ও আকস্মিক বানের আশঙ্কায় বিয়াস, শতদ্রুসহ যেকোনো পাহাড়ি নদী বা ঝরনার পানির কাছাকাছি যাওয়া সম্পূর্ণ বারণ করা হয়েছে।
৫. হোটেল ও ট্রাভেল এজেন্সির দায়িত্ব: হোটেল মালিক ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবহাওয়া খারাপ থাকলে তারা যেন কোনওভাবেই পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যে না পাঠান।
বর্তমানে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় ট্র্যাকিং ও ভ্রমণ স্থগিত রাখার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সকল সাধারণ মানুষকে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
