)
বিশ্বকাপে জার্মানি বছরের পর বছর ফ্লপ এখন। এবার ভাগ্য় বদলাতে দায়িত্ব নিলেন সেই জুর্গেন ক্লপ। দেখা যাক এবার তিনি কী ফুল ফোটাতে পারেন…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জল্পনাই সত্যি হল। জুলিয়ান নাগেলসম্যানের জুতোয় পা গলিয়ে জার্মানির নতুন কোচ হলেন জুর্গেন ক্লপ। ৫৯ বছরের প্রাক্তন লিভারপুলের ম্যানেজারকেই হটসিটে বসাল জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)। ২০২৩-২০২৬ পর্যন্ত জার্মানির কোচ ছিলেন জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তাঁর কোচিংয়েই এবার জোশুয়া কিমিচ ও জামাল মুসিয়ালাদের বিশ্বকাপের দৌড় রাউন্ড অফ থার্টিটুতে থেমেছিল। তাঁর পরেই নাগেলসম্যান ইস্তফা দেন। তখনই প্রায় একপ্রকার ঠিক হয়ে গিয়েছিল যে, ক্লপই দায়িত্ব নেবেন বছরের পর বছর ফ্লপ টিমের। ২০১৪ সালে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানি। মারিও গোৎসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ভুবনজয়ী হয়েছিল জোয়াকিম লো’র ‘ডি মেনশ্যাফট’! তারপর থেকে আর জার্মানি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ছাপ রাখতে পারেননি। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। লিভারপুলকে ৮ ট্রফি দেওয়া ক্লপের সামনে এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ।
সমালোচনায় বিশ্বাসী কল্পের বিরাট বিবৃতি
দায়িত্ব নিয়ে ক্লপ বলেন, ‘এখানে বসতে পারাটা বিরাট সম্মানের বিষয়। গত কয়েক দিন ধরে যা কিছু ঘটেছে, তা যেন আমার মনের পর্দায় কোনও সিনেমার মতো ভেসে উঠছে। নানা চিন্তায় আমার মন আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এসবের শুরুটা কোথায় হয়েছিল? আর আমিই বা কোথা থেকে এসেছি? জাতীয় দলের কোচ হওয়ার দায়িত্বটা যে কতটা বিশাল, সে সম্পর্কে আমার আগে থেকেই ধারণা ছিল। কিন্তু যখন নিজে সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিই, তখন এর গুরুত্ব ও গুরুভার আরও গভীর ভাবে অনুভব করি। আর আমার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, এই পর্যায়ে পৌঁছনোর কথা কল্পনা করাও আমার জন্য অসম্ভব ছিল। দিনটি আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ। যারা আমাকে এই জায়গায় আসতে সাহায্য় করেছেন, তাঁদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। তবে আমি কিন্তু কোনো ফাঁকা পাতা নই কোনও। আমি আমার পার্টনারদের নিয়েই এসেছি এবং এই কাজটা আমি শুধু নিজের জন্যই করছি না। জীবনের কোনও না কোনও পর্যায়ে সবারই নতুন কোনও চ্যালেঞ্জের প্রয়োজন হয়। আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট ছিল যে, সেই চ্যালেঞ্জট এখানেই নিতে হবে। নিজের দুর্বলতাগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকাই আমার শক্তির উৎস। কিছু কিছু কাজে আমি তুলনামূলক ভাবে ভালো। আমি চাই, এখানে আমরা আমাদের সেরাটা উজাড় করে দিই। আমি কোনও কিছুই উপেক্ষা করতে বা ভুলে যেতে চাই না। কেউ যদি জার্মানির ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেন, তবে আমার আর কিছুই করার নেই। আমাদের অনেক কাজ বাকি। আমি দু’একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছি ঠিকই, তবে আমি যে এসব খুব একটা মিস করেছি—তা বলা যাবে না। তথ্যের বিপুল পরিমাণ এবং তা ছড়িয়ে পড়ার অবিশ্বাস্য গতি আমাকে অবাক করেছে। আমরা যে পথে এগোচ্ছি, সেখানে কাজগুলি সঠিকভাবে করাটাই জরুরি। তাড়াহুড়ো করে দ্রুত শেষ করাটা নয়। যেদিন আপনারা আর আমাকে চাইবেন না, সেদিন সরাসরি বলবেন—আমি চলে যাব, এবং কোনও রকম ক্ষতিপূরণ ছাড়াই। আপনারা যদি আগামীকালও বলেন যে আমি ব্যর্থ, তবে আমি সরে দাঁড়াব; তবে তা যেন কেবল একজনের মতামতের ভিত্তিতে না হয়, বরং সামগ্রিক মতামতের ভিত্তিতে হয়। জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যদি বলে যে আমি ব্যর্থ হয়েছি, তবে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব। কিন্তু আপনারা যদি সীমা অতিক্রম করেন এবং আমার পরিবারকে বিরক্ত করা থেকে বিরত না থাকেন, তবে আমি তখনই সরে দাঁড়াব। কোনও কিছু ঠিকঠাক কাজ না করলে আমার সমালোচনা করুন—এতে আমি খুশিই হব, কারণ তখন আমি তা শুধরে নেওয়ার বা উন্নতির চেষ্টা করব। আসল কথা হল কাজ। জাতীয় দলের দায়িত্বের পর আমার আর কোনও কোচিং কেরিয়ার থাকবে না; আদর্শগত ভাবে বলতে গেলে, এই দায়িত্বটিই আমার কেরিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। জাতীয় দল আমাদের জার্মানদের এমনভাবে একত্রিত করে, যা আর প্রায় কিছুই করতে পারে না। আর একারণেই এই কাজটি আমার কাছে এত বিশেষ।
ক্লপের সামনে বিরাট দায়িত্ব
২০২৪ সালে লিভারপুল ছাড়ার পর কোচিংয়ে কামব্য়াক ক্লপের। ক্লান্তিজনিত কারণে শুরুতেই ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও, রেড বুলের ‘হেড অফ গ্লোবাল সকার’ হিসেবে গত দেড় বছর কাটানোর পর জার্মান কোচ জানিয়েছেন যে তিনি এখন তরতাজা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। লিভারপুলের হয়ে ৯ বছরের সফল কেরিয়ারের পর ফের কোচিংয়ে ক্লপ। অ্যানফিল্ডে থাকাকালীন তিনি লিভারপুলকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছিলেন। জিতেছিলেন প্রিমিয়র লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, এফএ কাপ এবং দু’টি লিগ কাপ। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের প্রাক্তন এই কোচ নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর বিশ্বস্ত সহকারী পেপ লিন্ডার্স ও পিটার ক্রাভিটজ তাঁর কোচিং প্যানেলে যোগ দেবেন এবং ডর্টমুন্ডের প্রাক্তন মিডফিল্ডার স্ভেন বেন্ডারকেও তিনি সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে দলে নিয়েছেন। এছাড়া আর্সেনালের প্রাক্তন ডিফেন্ডার পার মার্টেসাকার জানুয়ারি থেকে জার্মানির স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপে আরও একটি হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর জার্মানির আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ এখন ক্লপের সামনে। প্যারাগুয়ের কাছে হেরে জার্মানি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। টানা তিন বিশ্বকাপে শেষ গণ্ডি পেরোতে না পারার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও দীর্ঘায়িত হয়েছে। ক্লপের প্রথম দায়িত্ব শুরু হবে উয়েফা নেশনস লিগ দিয়ে, যেখানে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নেদারল্যান্ডস, গ্রিস ও সার্বিয়ার বিরুদ্ধে চারটি ম্যাচ খেলবে জার্মানি। এছড়াও ক্লপকে ইউরো ২০২৮ বাছাইপর্বের জন্য জার্মানির প্রস্তুতি তদারকি করবেন এবং শেষ পর্যন্ত ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে মুসিয়ালাদের নেতৃত্ব দেবেন।
(Feed Source: zeenews.com)
