Who Is Junaid Bhai: মঞ্চে নয়, আন্দোলনের নেপথ্যের মুখ ‘জুনায়েদ ভাই’, সিজেপি আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত নাম। কে তিনি জানেন?
এই ‘জুনায়েদ ভাই’ কে জানেন?
নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ৪৯ দিনের আন্দোলনে বহু নেতা সামনে থাকলেও, নেপথ্যে কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবকের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি মোহাম্মদ জুনায়েদ, যিনি আন্দোলনকারীদের কাছে ‘জুনায়েদ ভাই’ নামে পরিচিত। গাজিয়াবাদের নাহাল গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েদ আন্দোলনে কোনও আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের পদে ছিলেন না। তাঁর প্রধান কাজ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করা।
তবে আন্দোলনের মাঝেই তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে উত্তরপ্রদেশে তাঁর পরিবারের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। পরিবারের দাবি, তাঁর বাবা মুস্তাফাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ব্যাঙ্কের পাসবই, প্যান কার্ড-সহ একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। জুনায়েদের বোনের অভিযোগ, তাঁদের বাবাকে দিয়ে জুনায়েদকে দিল্লি থেকে ফিরে আসতে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিবার আরও দাবি করে, মিরাটে থাকা তাঁদের আত্মীয়দেরও হয়রানি করা হয়েছে। যদিও মিরাট পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, জেলার কোনও থানায় এ ধরনের ঘটনার রেকর্ড নেই এবং কারও বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। সিজেপির দাবি, আন্দোলনকে দুর্বল করতে এবং সমর্থকদের ভয় দেখাতে জুনায়েদের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। দলের মুখপাত্ররাও প্রকাশ্যে জুনায়েদের পাশে দাঁড়ান। সিজেপির আন্দোলন ব্যঙ্গ, হাস্যরস, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও এবং অভিনব প্রতিবাদের জন্য আলোচিত হয়। নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে পরীক্ষা সংস্কারের বৃহত্তর দাবিতে পরিণত হয়।
সরকার আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলি মেনে নেওয়ার আশ্বাস, আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি এবং পাঁচ দফা পরীক্ষা সংস্কার প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ার পর, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সঙ্গে ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করে সিজেপি। আন্দোলন শেষ হলেও, যন্তর মন্তরে খাবার ও জল পৌঁছে দেওয়া স্বেচ্ছাসেবক ‘জুনায়েদ ভাই’-এর নাম এই আন্দোলনের অন্যতম স্মরণীয় মানবিক অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।
(Feed Source: news18.com)