Sawan 2026: শ্রাবণে কেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী ছুটে যান শিবনিবাস? কী এমন রহস্য লুকিয়ে প্রাচীন এই শিবক্ষেত্রে? জানুন শিহরণ জাগানো ইতিহাস

Sawan 2026: শ্রাবণে কেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী ছুটে যান শিবনিবাস? কী এমন রহস্য লুকিয়ে প্রাচীন এই শিবক্ষেত্রে? জানুন শিহরণ জাগানো ইতিহাস

 

Sawan 2026: শ্রাবণের প্রতিটি সোমবার হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে শিবনিবাসে। প্রাচীন এই শিবক্ষেত্রের ইতিহাস, অলৌকিক কাহিনি, ধর্মীয় মাহাত্ম্য, কেন এখানে মহাদেবের পুজো এত বিশেষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে কেন ভক্তরা ছুটে আসেন—জেনে নিন শিবনিবাস শিবক্ষেত্রের সমস্ত অজানা তথ্য ও রহস্য…

শিবনিবাস

কৃষ্ণগঞ্জ, মৈনাক দেবনাথ: ভোর তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। কিন্তু নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী শিবনিবাসের পথে তখন মানুষের ঢল। কারও কাঁধে বাঁকে, কারও হাতে পূজার সামগ্রী। চারদিক কাঁপিয়ে ভেসে আসছে—’হর হর মহাদেব’, ‘বোল বাম’ ধ্বনি। প্রশ্ন জাগে, প্রতি বছর শ্রাবণ মাসেই কেন এমন জনসমুদ্র নামে এখানে? কী এমন টান, যা রাতভর পথ হাঁটিয়ে হাজার হাজার মানুষকে এনে দাঁড় করায় এই প্রাচীন শিবক্ষেত্রে? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে শিবনিবাসের দীর্ঘ ইতিহাস ও ভক্তদের অটুট বিশ্বাসে।

নদিয়ার এই ঐতিহাসিক মন্দিরেই রয়েছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। লোকবিশ্বাস, শ্রাবণ মাসে এখানে মহাদেবের মাথায় গঙ্গাজল অর্পণ করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়, দূর হয় জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি। আর সেই বিশ্বাসই প্রতিবছরের মত এবারও টেনে এনেছে অগণিত ভক্তকে। শ্রাবণ মাসে নবদ্বীপ থেকে কাঁধে বাঁকে গঙ্গাজল নিয়ে যাত্রা শুরু করেন অসংখ্য শিবভক্ত। দীর্ঘ পদযাত্রার শেষে সোমবার সকালে তাঁরা পৌঁছে যান শিবনিবাসে। এরপর নিয়ম মেনে মহাদেবের শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল নিবেদন ও পূজা-অর্চনা করেন। কারও ঠোঁটে জপ, কারও চোখ বুজে প্রার্থনা—ভক্তির আবহে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ।

শুধু বাঁকযাত্রীরাই নন, ভোর থেকেই নদীয়ার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও দলে দলে ভক্ত আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়ে। মন্দির চত্বর কার্যত পরিণত হয় এক বিশাল শ্রাবণী তীর্থমেলায়। এই বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখেনি প্রশাসন। কৃষ্ণগঞ্জ থানার উদ্যোগে মন্দির চত্বর ও আশপাশে মোতায়েন ছিল পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের নিরাপদে পুজো দেওয়ার বিষয়েও নজর ছিল প্রশাসনের। শতাব্দী পেরিয়েও শিবনিবাসের মাহাত্ম্য আজও এতটুকু ম্লান হয়নি। তাই শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবার এলেই হাজারও মানুষের একটাই ঠিকানা—এই প্রাচীন শিবক্ষেত্র, যেখানে বিশ্বাসের কাছে দীর্ঘ পথও হয়ে ওঠে সহজ।