)
Neet question paper lead CBI investigation chargesheet: সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশ করা এই চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত একাধিক কঠোর ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (Prevention of Corruption Act) এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট, ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা নিট (NEET-UG) পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস ও কেলেঙ্কারির মামলায় বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) এর। মঙ্গলবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের অর্থনৈতিক অপরাধ ধারায় মোট ১৩ জন ধৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রথম মূল চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। এই মামলা আগামিকাল বুধবার সদ্য গঠিত বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে স্থানান্তরিত হতে চলেছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশ করা এই চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত একাধিক কঠোর ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (Prevention of Corruption Act) এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট, ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ধৃত ১৩ জনের মধ্যে এনটিএ (NTA)-র বায়োলজি, কেমিস্ট্রি ও ফিজিক্স বিভাগের ৩ জন বিষয় বিশেষজ্ঞ ছাড়াও মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের একাধিক কোচিং সেন্টারের মালিক, মধ্যস্থতাকারী (মিডলম্যান) ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা রয়েছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে যশ যাদব, মাঙ্গি লাল বিওয়াল, বিকাশ বিওয়াল, শুভম খায়রনার, ডাঃ মনোজ শিরেুর এবং শিবরাজ মোতেগাঁওকরের মতো নাম রয়েছে, যাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে আটক রয়েছেন।
কীভাবে ফাঁদা হয়েছিল প্রশ্নফাঁসের জাল?
সিবিআইয়ের তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে এক ছড়িয়ে থাকা আন্তঃরাজ্য চক্রের জাল। তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, মাঙ্গি লাল বিওয়াল তাঁর ছেলে বিকাশ বিওয়ালের জন্য প্রশ্নপত্র জোগাড় করতে শুভম খায়রনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এর মাধ্যমে একটি ঠগেদের চেন তৈরি হয়। অভিযোগ, এনটিএ বিশেষজ্ঞদের থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর তা প্রায় ১০ লক্ষ টাকা চুক্তিতে হস্তান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে মাঙ্গি লাল বিওয়াল ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর কাছে তা বিক্রি করে।
রাজস্থানের শিকার ও মহারাষ্ট্রের লাতুরের কোচিং সেন্টারগুলোর যোগাযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্য ও নথি মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিবিআই তাদের পেশ করা প্রথম চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষী, ৪২২টি নথি এবং ৪৩টি তথ্য বা ডিজিটাল প্রমাণ (যেমন মোবাইল ফোন ও ডিভাইস) আদালতে জমা দিয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখে বহু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লকার এবং ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
হস্তরেখা বিশেষজ্ঞ ও তথ্যপ্রযুক্তি ফরেনসিক দলের বিশ্লেষণেই স্পষ্ট হয়েছে যে, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র অনৈতিকভাবে ছড়ানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার পর মে মাসের ১২ তারিখ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা দফতরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই প্রথম এফআইআর দায়ের করে।
দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়া এই ঘটনায় গত সপ্তাহে ৪৭ জন এনটিএ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিট পেশ হলেও এনটিএ-র উর্ধ্বতন কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তাদের তদন্তের দরজা খোলা রাখা হয়েছে। আইনানুগ কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়ে সিবিআই বিশেষ আদালতের মাধ্যমে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আর্জি জানাচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
