)
Adil Hussain’s family home flooded: অসমের ভয়াবহ বন্যায় ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বন্যাকবলিত ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ। এই বিপর্যয়ে প্রখ্যাত অভিনেতা আদিল হুসেনের শিবসাগরের পৈতৃক বাড়িও জলমগ্ন। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অসমে ফের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ। এবার এই বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল বিশিষ্ট অভিনেতা আদিল হুসেনের পরিবারও। অসমের শিবসাগরে অবস্থিত তাঁর নিজের পরিবারের বাড়িও এখন জলের তলায়। এক জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতা জানান, তাঁর বোন ও ভাগ্নিদের ঘরবাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং তিনি সাহায্য করার পথ খুঁজছেন। এই বিপদে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে গায়ক-সুরকার পাপন-এর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন তিনি।
অসমে বছর বছর ধরে চলা এই বন্যা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আদিল হুসেন। তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই প্রতি বছর এই ধ্বংসাত্মক বন্যা দেখে আসছি, আর এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ। প্রতি বছর এমনটা হলেও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ আজও পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ। পরিকল্পনাহীন শহর তৈরি হচ্ছে, জলাভূমি ভরাট করে কারখানা গড়ে উঠছে, যথেচ্ছ গাছ কাটা হচ্ছে। বন্যা সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো সঠিক তদন্ত বা স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।” আদিলের মতে, আসামে এই মুহূর্তে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত বন্যা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
সাহায্যের হাত বাড়ানোর কাতর আরজি গায়ক পাপনের
অন্য দিকে, অসমের এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো বার্তা দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন প্রখ্যাত গায়ক পাপন। তিনি আবেগঘন হয়ে বলেন, “অসমে বৃষ্টি ও বন্যা নতুন নয়, কিন্তু এবারের ভয়াবহতা কল্পনার বাইরে। গ্রামকে গ্রাম জলে ভেসে গেছে, বহু মানুষ গৃহহীন, শয়ে শয়ে মানুষ নিখোঁজ এবং প্রচুর পশুপাখির মৃত্যু হয়েছে। আমি ভারত-সহ পুরো বিশ্বের মানুষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি— আপনারা অসমের দিকে একটু নজর দিন। মানবতার খাতিরে আসুন আমরা সবাই দ্রুত এগিয়ে আসি।”
এক নজরে ২০২৬ সালের অসমের বন্যা পরিস্থিতি
বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় ৫.২৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যাকবলিত। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জেলা: শিবসাগর, জোড়হাট, গোলাঘাট, নগাঁও এবং চরাইদেও। বাঁধ, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
