)
শুধুমাত্র ডিগ্রির সার্টিফিকেটই কি চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারে? বর্তমান পরিবর্তনশীল কাজের বাজারে কেবল ভালো রেজাল্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক ‘এমপ্লয়েবিলিটি’ বা কর্মদক্ষতা! যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের মতো গুণাবলী কীভাবে গড়ে তুলবেন
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন একটাই আশা নিয়ে— একটি নিশ্চিত ও সফল কেরিয়ার। কিন্তু বর্তমান সময়ের কর্পোরেট দুনিয়া বা চাকরির বাজার এক ভিন্ন প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। কেবল একটি ডিগ্রির সার্টিফিকেট কি কোনো শিক্ষার্থীকে কর্মক্ষেত্রের জন্য পুরোপুরি যোগ্য করে তুলতে পারছে? উত্তরটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘না’। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, বিমান চলাচল, হসপিটালিটি, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা খুচরা ব্যবসা (রিটেল)— সমস্ত বিভাগেই আজ নিয়োগকর্তারা শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে প্রার্থী বাছাই করছেন না। বরং তাঁদের নজর থাকছে প্রার্থীর যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী এবং যেকোনো সমস্যার সমাধান খোঁজার দক্ষতার ওপর।
এই প্রসঙ্গে ‘এনআইপিএস স্কুল অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. বিবেক পাঠক জানান, “একটি ডিগ্রি হয়তো একজন শিক্ষার্থীকে ইন্টারভিউয়ের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু সেই ইন্টারভিউটি সফল ক্যারিয়ারে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করে প্রার্থীর কর্মদক্ষতা বা ‘এমপ্লয়েবিলিটি’র ওপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির কাজ শুধু ডিগ্রি বিলি করা নয়, পেশাদার তৈরি করা।”
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এনআইপিএস (NIPS) এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই তাদের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে। পাঠ্যবইয়ের চারদেওয়ালে শিক্ষা সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের একদম শুরু থেকেই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শিল্পক্ষেত্রের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যাতে পড়াশোনা শেষ করেই তারা কর্মক্ষেত্রের জন্য তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্যবহারিক কৌশলের কারণেই বর্তমানে ‘হসপিটালিটি এডুকেশন’ অন্যতম চাহিদাবহুল পেশাদার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ এই ধরনের পড়াশোনায় ক্রমাগত বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিমওয়ার্ক, সংকট ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের গুণাবলী শেখে। এই দক্ষতাগুলি কেবল হোটেল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেই সীমিত নয়, এগুলি সর্বজনীন ব্যবসায়িক দক্ষতা যা প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রেই সমান মূল্যবান। ফলে হসপিটালিটি সেক্টরের স্নাতকরা আজ কেবল হোটেলেই সীমাবদ্ধ না থেকে এয়ারলাইন্স, ক্রুজ লাইন, লাক্সারি ব্র্যান্ড, স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এবং বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন।
আজকের যুগে পিতা-মাতারা যখন সন্তানের জন্য কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করছেন, তখন তাঁদের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত— “প্রতিষ্ঠানটি কি প্রার্থীর সেই দক্ষতাগুলি গড়ে তুলতে পারবে, যা নিয়োগকর্তারা খুঁজছেন?” অবকাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ও কোর্স ফি নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ারের সাফল্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে কর্মদক্ষতায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের এই যুগে শুধু কারিগরি জ্ঞান কখনোই যথেষ্ট নয়। যোগাযোগের দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা-র মতো মানবিক গুণাবলীই একজন সফল পেশাদারকে চিহ্নিত করবে। তাই যেসব প্রতিষ্ঠান অ্যাকাডেমিক শিক্ষার সাথে বাস্তবিক পেশাগত অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন ঘটায়, তারাই মূলত আগামী দিনের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে।
(Feed Source: zeenews.com)
