)
Ma Durga in Oman: ১৮ দিনে তৈরি হয়ে গেল মোট ৭টি প্রতিমা! পাঁচজন মিলে দিনরাত এক করে টানা ১৮ দিন কাজ করে ওমানে তৈরি করে ফেললেন মোট ৭ টি প্রতিমা। সপরিবার দুর্গা তো আছেনই। রয়েছে একটি অতিরিক্ত লক্ষ্মীমূর্তি। এবং কালীপ্রতিমাও!
অয়ন ঘোষাল: যুদ্ধবিধ্বস্ত ওমানে কার্গো কন্টেইনারের মধ্যে জন্ম নিল মা দুর্গার অপূর্ব মূর্তি। বাঙালির প্রাণের পুজোয় তৈরি হল অভূতপূর্ব ইতিহাস। একে একটি যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ, তার উপর সেদেশে মূর্তিপুজো প্রশাসনিক ভাবে নিষিদ্ধ। সেখানে দেবীপূজা?
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে মা
একে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, তার উপর সেই দেশে মূর্তি পুজো প্রশাসনিক ভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেখানে দেবী আরাধনা। আর পুজোপাগল বাঙালি যেখানে যাবে, সেখানেই তো দুর্গাপুজো হবে! তাই ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে কুমারটুলি থেকে যাওয়া ফাইবারের প্রতিমা ম্যাসকট বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগে আটকে যাওয়ার পরে এবার সুকৌশলে কুমারটুলির প্রথিতযশা শিল্পী স্বয়ং পশুপতি রুদ্র পালকেই ওমানে উড়িয়ে নিয়ে গেল সেখানকার দেড়শো বাঙালি তৈলখনি আধিকারিক কর্মী পরিবারের পুজো কমিটি।

অভূতপূর্ব! আশ্চর্য!
তারপর? তারপর পশুপতি রুদ্র পাল অত্যন্ত গোপনে একটি কার্গো শিপমেন্ট কন্টেইনারের ভিতরে ১৮ দিন বসে তৈরি করে ফেললেন মা দুর্গার গোটা পরিবার। সঙ্গে তৈরি করে দিয়ে এলেন কোজাগরী লক্ষ্মীর মূর্তি এবং মা কালীর মূর্তিও। কখনও-না-ঘটা এক অভূতপূর্ব আশ্চর্য ঘটনার সাক্ষী থাকল বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোর ইতিহাস। তৈরি হল নতুন ঐতিহ্য!
কলকাতা থেকে প্রতিমার শাড়ি-ধুতি-গয়না
এ নিয়ে কী বলছেন শিল্পী স্বয়ং পশুপতি রুদ্র পাল? জানা যাচ্ছে, কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রতিমার শাড়ি ধুতি গয়না। ওমানের বাঙালি পরিবারগুলি স্থানীয় ভাবে জোগাড় করে দিয়েছিলেন পেপার পাল্প বা শক্ত কাগজের মণ্ড। সঙ্গে রঙ তুলি-সহ সমস্ত সরঞ্জামও তাঁরাই একে একে সংগ্রহ করে দেন স্থানীয় বাজার থেকে। শিল্পীর কাজ করার সুবিধার জন্য কন্টেনারে লাগানো হয় এসি। ব্যবস্থা হল জেনারেটর আলোপাখার। সর্বক্ষণের জন্য দেওয়া হল তিনজন সহযোগী। শিল্পী নিজে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর বহুদিনের বিশ্বস্ত এক সহশিল্পীকে। এই পাঁচজন দিনরাত এক করে টানা ১৮ দিনে ওমানে তৈরি করে ফেললেন মোট ৭ টি প্রতিমা। প্রতিমা দেখলে কে বলবে, এটি কাগজের তৈরি? (ছবি: অয়ন ঘোষাল)
(Feed Source: zeenews.com)
