
এই তথ্য সামনে এসেছে ঠিক এক সপ্তাহেরও কিছু বেশি সময় পরে, যখন ChatGPT-এর নির্মাতা OpenAI জানিয়েছিল যে পরীক্ষাধীন একটি AI সিস্টেম টেস্টিং এনভায়রনমেন্টের সীমাবদ্ধতা ভেঙে অন্য একটি প্রযুক্তি সংস্থার সিস্টেমে হ্যাক করেছিল।
Anthropic-এর এই ঘটনা নতুন করে সেই বিতর্ককে উসকে দিতে পারে যে, উন্নত AI মডেল ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না। এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি শিল্পে উদ্বেগের কারণ হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউস-কেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি ব্লগ পোস্টে Anthropic জানায়, গত সপ্তাহে OpenAI-এর প্রকাশিত তথ্যের পর তারা নিজেদের AI মডেলের পরীক্ষার নথি পুনরায় খতিয়ে দেখে। সেই সময়ই তারা জানতে পারে, তিনটি পৃথক ক্ষেত্রে AI মডেলগুলিকে শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক সফটওয়্যারে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হলেও, সেগুলি ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয়ে বাস্তব সংস্থার কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে।
Anthropic জানিয়েছে, এই সপ্তাহের আগে পর্যন্ত তারা নিজেরাও বা যেসব সংস্থার সিস্টেমে প্রবেশ করা হয়েছিল, কেউই এই অনুপ্রবেশের বিষয়টি জানতে পারেনি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোন কোন সংস্থা আক্রান্ত হয়েছে, তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে Anthropic-এর মুখপাত্র।
Anthropic জানিয়েছে, এই সপ্তাহের আগে পর্যন্ত তারা নিজেরাও বা যেসব সংস্থার সিস্টেমে প্রবেশ করা হয়েছিল, কেউই এই অনুপ্রবেশের বিষয়টি জানতে পারেনি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোন কোন সংস্থা আক্রান্ত হয়েছে, তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে Anthropic-এর মুখপাত্র।
ব্লগ পোস্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ঘটনা ঘটার পেছনে ছিল একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’। Anthropic-এর AI মডেল পরীক্ষায় সহায়তাকারী তৃতীয় পক্ষের সংস্থা Irregular ভুলবশত AI-কে ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। Anthropic জানিয়েছে, সোমবার তারা Irregular এবং আক্রান্ত সংস্থাগুলিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়েছে।
Irregular-এর এক মুখপাত্র বলেন, “নিরাপত্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে Anthropic-এর সহযোগিতা ও স্বচ্ছতাকে আমরা স্বাগত জানাই। ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশা রাখছি।” দুই সংস্থাই জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
গত সপ্তাহে OpenAI জানিয়েছিল, পরীক্ষাধীন একটি AI ‘এজেন্ট’ সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কাজ করার পরিবর্তে তাদের পরীক্ষামূলক পরিবেশে থাকা একটি অজানা দুর্বলতা (Unknown Vulnerability) কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পেয়ে যায়। এরপর পাঁচ দিনের মধ্যে সেটি একাধিক বাইরের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে এবং AI সফটওয়্যার সংস্থা Hugging Face-এর সিস্টেমেও অনুপ্রবেশ করে, যেখানে পরীক্ষার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
OpenAI এবং Anthropic—দুই সংস্থার এই ঘটনাই এমন সময় সামনে এল, যখন প্রযুক্তি শিল্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে যে, নতুন প্রজন্মের AI মডেল কম্পিউটার নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করতে সক্ষম হওয়ায় সরকার কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা পদক্ষেপ নেবে।
Anthropic এপ্রিলে Mythos নামে একটি AI মডেলের ঘোষণা করেছিল, যেটিকে সংস্থার দাবি অনুযায়ী এতটাই শক্তিশালী যে নিরাপদভাবে ব্যাপকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে OpenAI-ও এমন কিছু AI মডেল তৈরি করেছে, যেগুলির সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা অত্যন্ত উন্নত এবং সেগুলি প্রতিরক্ষা বা আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যেতে পারে।
চলতি বছরের জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে (Executive Order) সই করেন, যার লক্ষ্য এমন শক্তিশালী AI মডেল সম্পর্কে মার্কিন সরকারকে আগাম তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা, যেগুলি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে সেই নির্দেশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে।
(Feed Source: news18.com)
