)
আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফিফার প্রস্তাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক তোলপাড়! ইনফান্তিনো চাইছেন বিশ্বকাপের বেসরকারিকরণ! বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক ৯৬ দেশের। জোটবদ্ধ UEFA, CONCACAF, AFC
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার ১২ দিনের মধ্যে বিরাট বিতর্কের ঝড় ফুটবলদুনিয়ায়! পরিস্থিতি এখন যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে করে আদৌ পরবর্তী বিশ্বকাপগুলি হবে কি না তা নিয়ে রীতিমতো সংশয় তৈরি হয়েছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো ঘোষণা করেছেন যে, ফিফা তাদের বাণিজ্যিক ব্যবসার ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করছে। এই উদ্দেশ্যে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামে এক নতুন সাবসিডিয়ারি তৈরি করা হবে। ইনফান্তিনোর ঘোষণার পরেই ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করছে। ইউনিয়ন অফ ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনস ওরফে উয়েফার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ফিফার যদি বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তাদের ৫৫ সদস্য দেশই বিশ্বকাপ বয়কট করবে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘যতদিন এই প্রস্তাব কার্যকর থাকবে, ততদিন কোনও উয়েফার জাতীয় দল ফিফার কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত ফিফার এই প্রস্তাব পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে। পাশাপাশি ফিফাকে বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তারা আর কখনই তাদের পরিচালনা ব্যবস্থা বা প্রতিযোগিতাগুলিকে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন করার উদ্যোগ নেবে না। উয়েফায় ৫৫ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এই বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ। বিশ্বকাপ এবং ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতার মালিকানা স্বত্ব ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের যে প্রস্তাব ফিফা দিয়েছে, তা আমরা সর্বসম্মতিক্রমে ও দ্ব্যর্থহীন ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। বিশ্বকাপকে কোনো বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে গণ্য করা যায় না। এটি ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া ঐতিহ্য। প্রতিটি মহাদেশের খেলোয়াড়, জাতীয় দল এবং সমর্থকদের অবদানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যা গড়ে উঠেছে। এর কোনও অংশই কখনও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রি করার মতো কোনও পণ্য নয়।’
ফিফাকে ধুয়ে দিয়েছে উয়েফা
‘ফুটবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এমন এক প্রস্তাব গোপনে তৈরি করা এবং খেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনও অর্থপূর্ণ আলোচনা ছাড়াই সেটিকে অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা হচ্ছে! দুই কাজই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অগ্রহণযোগ্য। নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতাই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাও তুলে ধরেছে। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা তখন নিত্যদিনের চাপে পরিণত হয়। সেই মুহূর্ত থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াসূচি, প্রতিযোগিতার কাঠামো কিংবা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী প্রতিটি সিদ্ধান্ত আর খেলাটর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয় না। বরং তখন প্রাধান্য পায় শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ। এই বিষয়ে ইউরোপের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। আমরা কখনই এই মডেলকে বৈধতা দেব না। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যা কেবল আমানত হিসেবে গচ্ছিত রাখা হয়েছে, তা বিক্রি করার নৈতিক অধিকার কারোর নেই। কিছু বিষয় এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে সেগুলিতে কেনাবেচা চলে না। ফিফা বিশ্বকাপ, ফুটবলেরই সম্পদ। চিরকাল সেটাই থাকবে। আর যতদিন ইউরোপের কণ্ঠস্বর সোচ্চার থাকবে, ততদিন বিশ্বকাপ বিক্রি হবে না।’
উয়েফার সঙ্গেই কনকাকাফ ও এএফসি
পুরুষ এবং মহিলা, উভয় ফুটবলেই শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে ৬টিই ইউরোপের। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনও। ইউরোপে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফিফার পরবর্তী ইভেন্ট মহিলাদের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আয়োজক পোল্যান্ড। এছাড়া ২০৩৫ সালের মেয়েদের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফার কাছে একমাত্র যে প্রস্তাব জমা পড়েছে, তা এসেছে চারটি ব্রিটিশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৩ নভেম্বর। বয়কটের হুমকির পর ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (যারা টিকিটের দামের মতো বিষয়গুলিতে উয়েফাকে পরামর্শ দিয়ে থাকে) এক পোস্টে লিখেছে, ‘গেম ওভার, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আউট’। আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফের ৪১টি সদস্য সংস্থাও ফিফার পরিকল্পনা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন মহাদেশের ৪৭ সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করেছে যে, ছ’টি আঞ্চলিক ব্লকের সর্বসম্মতি ক্রমে সমর্থন ছাড়া এই প্রস্তাবের সফল বাস্তবায়ন কখনও সম্ভব হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
