)
NCPI MPs returning TMC: মাত্র কএকদিনেই মোহভঙ্গ! কিন্তু এই মোহভঙ্গের কারণ কী? কেন ফের তৃণমূলেই ফিরতে চান তাঁরা? তৃণমূলে ফেরার ফর্মুলা কী? কোন ফর্মুলায় তাঁদের দলে নেওয়া হবে? ওদিকে ঘোর অস্বস্তিতে NCPI-ও।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২ নয় ৩! NCPI ছেড়ে তৃণমূলে ফিরছেন ৩ সাংসদ। NCPI-তে যোগ দিয়েও অস্বস্তি! আর তাই ফের তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’র সিদ্ধান্ত। তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে ইতিমধ্যেই তাঁরা যোগাযোগ করেছেন মমতাপন্থী তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে। কোন ফর্মুলায়, কীভাবে তাঁদের ফের দলে নেওয়া যায়, সেই নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার সামনে এল সেই নামগুলো। কে কে? কোন ৩ সাংসদ NCPI থেকে ফিরছেন বা ফিরতে চান তৃণমূলে? আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান।
জানা গিয়েছে আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান তৃণমূলে ফেরার জন্য ইতিমধ্যেই দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান তিনজনেই মুর্শিদাবাদ জেলার ৩ সাংসদ। আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান তৃণমূলের টিকিটে মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর- এই ২ আসন থেকে জিতে সাংসদ হন। জানা গিয়েছে, তাঁরা দুজনেই তৃণমূলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। ওদিকে তৃতীয়জন ইউসুফ পাঠানও মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সাংসদ। তিনিও তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে খবর। উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটে বাংলায় ভরাডুবির পর দিল্লিতেও তৃণমূলের সংসদীয় দলে বিদ্রোহ দেখা দিলে, সংঘাত ও রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন নিয়ে প্রাথমিকভাবে অস্বস্তিতে ছিলেন ইউসুফ পাঠান। পরে অবশ্য দেখা যায়, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে বিক্ষুব্ধ ২০ সাংসদের দলে তাঁরও সই রয়েছে।
কেন ফিরতে চান তৃণমূলে?
এখন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের NCPI ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাংসদ সৌগত রায়ও। NCPI সাংসদদের ফের তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’র খবরে সিলমোহর দিয়ে সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে হ্যাঁ, আমার সঙ্গে যোগাযোগে আছে।’ কিন্তু, মাত্র কএকদিনেই মোহভঙ্গের কারণ কী? কেন NCPI ছেড়ে ফের তৃণমূলেই ফিরতে চাইছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা? দিল্লির সূত্রে মিলেছে বড় আপডেট। জানা যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরা NCPI-তে যোগ দিলেও, এনসিপিআই দলের অন্দরে স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে এমনিতেই অসন্তোষ রয়েছে। তার উপর, সংখ্যালঘু এই সাংসদদের ভোটারদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু। তাই এনডিএ শিবিরে যাওয়ার ঘোষণার পর থেকে নিজেদের এলাকায় আর আগের মত আর ঘুরতে পারছেন তাঁরা। বেশিরভাগ সময় দিল্লিতেই থাকতে হচ্ছে তাঁদের। এইসব কারণেই তাঁরা আবার তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া বলে খবর!
তৃণমূলে ফেরার ফর্মুলা কী?
কিন্তু দলত্যাগী এই সাংসদের তৃণমূলে ফেরা কি এতই সহজ হবে? তৃণমূলে ফেরার ফর্মুলা কী? কোন ফর্মুলায় তাঁদের দলে নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের সদস্যপদ খারিজ করার যে আবেদন জানানো হয়েছে, দলের তরফে সবার আগে তা প্রত্যাহার করতে হবে। তারপর দল বিরোধী কাজের জন্য তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। সেক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে যে নির্দল সাংসদ হিসেবে থেকে যাওয়ার। শোনা যাচ্ছে, এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে শুরু হয়ে গিয়েছে আলোচনা। যে প্রসঙ্গে সৌগত রায়ও বলেন, “ওদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আবেদন প্রত্যাহার করতে হবে।” প্রসঙ্গত, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দলত্য়াগ বিরোধী আইনে ২০ সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানিয়ে রেখেছে তৃণমূল।
উল্লেখ্য, চব্বিশে লোকসভা ভোটে ঘাসফুল প্রতীকে জেতা ২৯ সাংসদের মধ্যে ২০ জনই সাংসদই এখন NCPI-তে। লোকসভায় তাঁদের আলাদা বসারও ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু যেদিকে জল গড়াচ্ছে, এবার সেই সমীকরণ-ই হয়তো ফের বদলাচ্ছে!
(Feed Source: zeenews.com)
