Gujarat’s Jamnagar Murder: কারখানার কংক্রিটের মেঝে খুঁড়তেই শিউরে ওঠা দৃশ্য! বেরিয়ে এল কঙ্কাল৷ এরপরেই ২ বছর আগে হওয়া ভয়ঙ্কর খুনের পর্দাফাঁস৷ গুজরাতের ঘটনার সঙ্গে অদ্ভুত মিল বলিউডের জনপ্রিয় থ্রিলার ছবি ‘দৃশ্যম’-এর কাহিনীর৷
গুজরাতের জামনগরে নৃশংস খুন
গুজরাত, জামনগর: স্বামীকে কর্মসূত্রে অস্ট্রেলিয়া যেতে হয়েছে৷ সংস্থার কড়া নিয়ম, কোনওভাবেই ওরা ব্যবহার করতে দিচ্ছেনা ফোন৷ গোটা দু’দুটি বছর ধরে পরিবার, আত্মীয়স্বজন সকলকেই একথা বলে বেড়িয়েছেন স্ত্রী৷ এরপর গত বৃহস্পতিবার, একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবেই গোটা ঘটনা মোড় নিল ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের৷
ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের জামনগরে৷ জানা গিয়েছে মৃত ব্যক্তির নাম জিগনেশ মাভাডিয়া৷ গত বৃহস্পতিবার, পুলিশের খোঁড়াখুঁড়িতে একটি কারখানার কংক্রিটের মেঝের ১২ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার হয় জিগনেশের কঙ্কালসার দেহাবশেষ। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, গোটা ঘটনার সঙ্গে বলিউডের জনপ্রিয় থ্রিলার ছবি ‘দৃশ্যম’-এর কাহিনির আশ্চর্য মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।
পুলিশের অভিযোগ, পৃথ্বী তাঁর প্রেমিক নিলেশ কচ্ছাটিয়া এবং নিলেশের বন্ধু বলবীর বর্মার সঙ্গে মিলে জিগনেশকে খুন করেন। এরপর সন্দেহ এড়াতে সকলকে জানানো হয়, জিগনেশ অস্ট্রেলিয়ায় চলে গিয়েছেন এবং তাঁর সংস্থা ফোনে যোগাযোগের অনুমতি দেয় না।
তবে সেই গল্পে ফাটল ধরে, যখন জিগনেশের এক খুড়তুতো ভাই অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করে তাঁর ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর জানতে চান। পৃথ্বী কোনও তথ্যই দিতে না পারায় পরিবারের সন্দেহ বাড়তে থাকে।
এরপর চলতি বছরের ২৬ জুলাই জিগনেশের ভাই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তে নেমে গত পুলিশ ৩০ জুলাই জামনগরের একটি কারখানার চত্বরের কংক্রিট ভেঙে প্রায় ১২ ফুট নিচ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে। পুলিশ ইতিমধ্যেই পৃথ্বী, তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক বলে দাবি করা নিলেশ কচ্ছাটিয়া এবং বলবীর বর্মাকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের পরিচয় নিশ্চিত করতে তা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
কীভাবে খুন?পুলিশের দাবি, পৃথ্বীর সঙ্গে নিলেশের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই দু’জনে মিলে জিগনেশকে হত্যার ছক কষেন।
অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৩১ মে রাতে মদ্যপানের আসরের নাম করে জিগনেশকে জামনগরের একটি শিল্পাঞ্চলের শেডে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে সায়ানাইড মেশানো মদ পান করান হয়। বিষক্রিয়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তিন অভিযুক্ত মিলে প্রায় ১২ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে দেহটি পুঁতে দেয়। পরে সেই জায়গার উপর প্রায় এক ফুট পুরু কংক্রিটের স্তর ঢেলে দেওয়া হয়, যাতে দীর্ঘদিন কেউ কিছু টের না পায়।
সহকারী পুলিশ সুপার প্রতিভা জানান, অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) করা হয়। এরপর খননকাজ চালিয়ে জিগনেশের বলে সন্দেহ করা কঙ্কাল উদ্ধার হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, প্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
(Feed Source: news18.com)