
Arthritis in Monsoon: ২০২২ সালে ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ রিউম্যাটোলজি’ -তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮%) আর্থ্রাইটিস রোগী বর্ষাকালে তাঁদের অস্থিসন্ধিতে বাড়তি আড়ষ্টতা এবং ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। অস্থিসন্ধির ব্যথা এবং বর্ষাকালের মধ্যেকার এই সংযোগের প্রকৃতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, মসৃণভাবে এই সময়টা কীভাবে পার করা যায়, জানুন। বলছেন ডক্টর সুরেশকুমার কেজরিওয়াল, কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জেন, আইএলএস হাসপাতাল, দমদম।
আর্থ্রাইটিস, অতীতের গাঁটের আঘাত বা বয়সজনিত জড়তায় ভোগা ব্যক্তিরা প্রায়শই বর্ষাকালে তাদের অস্বস্তি বেড়ে যেতে দেখেন। এমনকি যাদের আগে কখনো গাঁটের সমস্যা ছিল না, তারাও কখনও কখনও ভারীভাব, জড়তা বা চলাফেরার সীমাবদ্ধতা অনুভব করেন। আবহাওয়া আপনার অস্থিসন্ধিগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা বুঝতে পারলে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বর্ষাকাল আরও আরামদায়ক হতে পারে। বলছেন ডক্টর সুরেশকুমার কেজরিওয়াল, কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জেন, আইএলএস হাসপাতাল, দমদম।
বর্ষায় বাতের ব্যথা বেড়ে যাওয়ার পিছনে আবহাওয়ার বড় ভূমিকা আছে। বৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কমে যাওয়ায় শরীরের জয়েন্টে কলা প্রসারিত হতে পারে, যা অস্থিসন্ধির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং অস্বস্তি বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি ঠান্ডা আবহাওয়ায় পেশী ও অস্থিসন্ধিতে রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে পারে, যার ফলে সেগুলো শক্ত হয়ে যায়। স্যাঁতসেঁতে ভাব আগে থেকেই প্রদাহযুক্ত অস্থিসন্ধির ফোলাভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে, বিশেষ করে আর্থ্রাইটিস বা গেঁটেবাতের রোগীদের ক্ষেত্রে। পুরনো আঘাত থাকলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। বর্ষায় সাধারণত সকলেরই ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি কমে যায়। ফলে গাঁটের ব্যথা থেকে রেহাই মেলে না। অস্টিওআর্থ্রাইটিস , রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গাউটের মতো রোগে আবহাওয়ার পরিবর্তন প্রদাহকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যার ফলে ব্যথা ও ফোলাভাব বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই বর্ষাকালে আর্থ্রাইটিসের যত্নে বাড়তি মনোযোগ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বর্ষায় অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট বা গাঁটের অংশকে সমস্যামুক্ত রাখার জন্য কিছু টিপস মানতে হবে। আর্দ্র এই ঋতুতে একটু ভারী পোশাক পরুন। গরমের মতো হাল্কা পোশাক হলে চলবে না। আবার শীতের মতো উলের ভারী পোশাকও নয়। এ সময়ে খালি পায়ে ঘরের ঠান্ডা মেঝেতে হাঁটবেন না। যোগাভ্যাস, হাল্কা স্ট্রেচিং করুন যাতে রক্ত সঞ্চালন বজায় থাকে। হিটিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন। স্নান করুন উষ্ণ জলে। প্রচুর জলপান করুন। এতে অস্থিসন্ধি এবং জয়েন্টের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে।
চিকিৎসার পাশাপাশি বর্ষাকালে কিছু প্রাকৃতিক প্রতিকার অতিরিক্ত স্বস্তি প্রদান করে। আক্রান্ত অস্থিসন্ধিতে হিট প্যাড বা গরম জলের বোতল প্রয়োগ করলে আড়ষ্টতা কমে যায়। আক্রান্ত অংশে সরষে তেল হালকা হতে মালিশ করা হলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং পেশি শিথিল করে। তবে হাল্কা হাতে মালিশ করতে হবে। যদিও বৃষ্টির দিনে ডিহাইড্রেশনের প্রভাব কম মনে হয় , কিন্তু অপর্যাপ্ত জল পানের ফলে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড ঘন হয়ে যায়, যা অস্থিসন্ধির পিচ্ছিলতা কমিয়ে দেয়। প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস জল পান করার লক্ষ্য রাখুন। ভিজে পোশাক পাল্টে ফেলুন। আদা-হলুদ দেওয়া অ্যান্টি ইনফ্লেম্যাটরি হার্বাল টি খান। আখরোটের মতো ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ খাবার খান।
অল্প স্বল্প গাঁটের ব্যথা হতেই পারে বর্ষায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। যদি অনেক দিন ব্যথা থাকে। আক্রান্ত অংশ ফুলে যায়, লাল হয়ে ওঠে, চলাফেলা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, গাউট অসহ্য হয়ে উঠলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ডাক্তারবাবু চাইলে কিছু পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারেন। বলতে পারেন ফিজিওথেরাপি করাতে। ওমেগা থ্রি আছে, এমন খাবার বেশি করে খান। এতে গাঁটের ব্যথা নিয়ন্ত্রিত হবে। ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের যোগান বজায় রাখুন। এতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল থাকবে।
বর্ষায় গাঁটের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করে জুতো। জুতো পাল্টালে আপনি অনেকটা রেহাই পাবেন সমস্যা থেকে। কুশন সোল বা নরম সোলের জুতো পরলে হাঁটু ও নিতম্বের অংশে চাপ কম পড়ে হাঁটার সময়। এছাড়া জুতো যেন পিচ্ছিলতা প্রতিরোধ করতে পারে, সেদিকেও নজর দেবেন। কুশনযুক্ত ও পিছলে না যাওয়া জুতো পরলে শরীরের ভার বহনকারী অস্থিসন্ধিগুলোর ওপর চাপ কমে এবং পিচ্ছিল পৃষ্ঠে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ হয়, যা অস্থিসন্ধির সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আরও একটা বিষয়-জুতো যেন চটজলদি শুকিয়ে যায়, সেটাও দেখতে হবে। ভিজে জুতো পরে থাকলে বা দীর্ঘ ক্ষণ পা ভিজে থাকলে সমস্যা বাড়বে।
আর্থ্রাইটিস কমাতে বর্ষায় সাঁতার কাটা খুবই উপযোগী। এটা জিরো ইমপ্যাক্ট এক্সারসাইজ। হাঁটু, নিতম্ব ও শিরদাঁড়ার উপর থেকে চাপ কমিয়ে দেয়। অস্থিসন্ধির আড়ষ্টতা কমে যায়। অস্থিসন্ধি-সহ সারা দেহের মাংসপেশীর শিথিলতা বজায় থাকে। তবে আউটডোর পুলে ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটলে কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে সমস্যা বাড়বে। ইন্ডোর সুইমিং পুলে উষ্ণ জলে সাঁতার কাটুন। সুইমিং পুলের জল যেন পরিষ্কার থাকে। বেসিক হাইজিন বজায় রাখুন সুইমিং পুলে। সাঁতারের আগে হাল্কা ব্যায়াম করুন। সাঁতার কাটার পর ভিজে পোশাক দ্রুত পাল্টে নিন। ব্লো ড্রাই করে নিন ভিজে চুল।
ই সময় দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা এয়ার কন্ডিশনিং-এর সংস্পর্শে থাকলে রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে পারে এবং পেশী ও অস্থিসন্ধিতে জড়তা বাড়তে পারে। সহনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং সরাসরি ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চললে অস্বস্তি কমাতে সাহায্য হতে পারে। গাঁটের ব্যথার সমস্যা থাকলে শীতাতপ যন্ত্রের কনকনে ঠান্ডায় বেশি ক্ষণ না থাকাই শ্রেয়। ফ্রিজিং সেটিং করবেন না বাতানুকূল যন্ত্রের। ২৪ ডিগ্রি-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখুন তাপমাত্রা। সরাসরি ঠান্ডা লাগাবেন না। গায়ে হাল্কা চাদর দিন। যদি আর্থ্রাইটিস নিয়ে অনেক ক্ষণ এসি-তে থাকতে হয়, তাহলে এক ঘণ্টা পর পর উঠে একটু হাঁটুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বজায় থাকবে সঠিক ভাবে।
উপকার পেতে পারেন ফিজিওথেরাপিতে। এতে আড়ষ্টতা কমে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, পেশী শক্তিশালী হয়। বর্ষায় ফিজিওথেরাপি করালে আর্থ্রাইটিসে সচলতা বজায় রাখতে, অস্থিসন্ধির চারপাশের পেশি শক্তিশালী করতে এবং জড়তা কমাতে সাহায্য করে। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বর্ষা মৌসুমের জন্য উপযুক্ত নিরাপদ ইনডোর ব্যায়ামও তৈরি করে দিতে পারেন। পাশাপাশি উপকার পাবেন হিটিং থেরাপিতেও।
(Feed Source: news18.com)
