
প্রেমের প্রথম চিঠি
জাপানের নাঙ্গয়া শহরে ম্যাজিকের শো ছিল। পি সি সরকার জুনিয়র বলছেন, ‘শহরে শো চলাকালীন, একটি মেয়ে আমার কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে লেখা, ‘টু, সউ কা সান..’। জাপানি ভাসায় সরকার বলতে পারে না, বলে ‘সউ কা’। আর ‘সান’ মানে, মিস্টার। পত্রবাহককে মেয়েটি বলে পাঠিয়েছিলেন, চিঠিটা যেন আমার হাতেই আসে, অন্য কারও হাতে নয়। পত্রবাহককে দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মেয়েটি, ওঁকে ঢুকতে দেয়নি। পত্রবাহক সেই চিঠি যথারীতি এসে তুলে দিলেন, আমার বাবার হাতে। বাবা গম্ভীর মুখে চিঠি খুললেন, তারপরেই চোখ বড় বড়! ‘একি এ তো প্রেমপত্র’। মেয়েটি আমায় প্রোপোজ করেছিলেন আর সেটা গিয়ে পড়েছে বাবার হাতে! বাবা বুঝলেন, ছেলের বয়স হয়েছে। আমার তখন সবে গোঁফ উঠছে.. সে কি লজ্জা..’
২টো বিয়ের প্রস্তাব!
স্মৃতির অতলে ডুব দিয়ে, সেই চির চেনা হাসি মাখিয়ে পি সি সরকার জুনিয়র বলে চললেন, ‘মেয়েটির জন্য আমার খারাপ লেগেছিল। পরবর্তীকালে, আমার সঙ্গে তাঁর দেখাও হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তোমায় একটা চিঠি লিখেছিলাম। জবাব পাইনি। এখন বাস্তবে, মুখে মুখে বলছি, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই’। থতমত খেয়ে আমি বললাম, ‘খুব ভাল কথা, কিন্তু আমি তো বাগদত্ত। একজনকে আমি কথা দিয়েছি যে, আমি তাঁকেই বিয়ে করব।’ জাপানি নিষ্ঠুর মুখ দেখিয়ে মেয়েটা বললেন, ‘আমি জানি, ভারতীয়রা অনেকগুলো বিয়ে করেন। তোমার ২টো বিয়ে করতে অসুবিধা কোথায়?’ আমি বললাম, ‘না.. তুমি যা জানো, ভুল জানো। আমরা সনাতনী হিন্দুরা একটা বিয়ে করি।’ মেয়েটি প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার বউ কি খুব সুন্দর দেখতে?’ আমি বললাম, ‘সেটা এক এক জনের চোখে, এক এক রকম। আমার কাছে আমার মতো..’
সস্ত্রীক পি সি সরকার জুনিয়র, চোখে জল সেই প্রেমিকার
গল্পের শেষ এখানেই নয়। একটু দম নিয়ে, পি সি সরকার জুনিয়র ফের বললেন, ‘তারপরে আবার দেশে ফিরেছি। পরের বার বউকে নিয়ে জাপানে গিয়েছি। ওখানে গিয়ে আবার সেই চিঠি! ওরে বাবা! আমি বউকে বললাম, ‘দেখো তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী এসে গিয়েছে। হয়তো মারামারি লেগে যাবে।’ আমার বউ শুনে বলল, ‘ঠিক আছে, আসুক না! কথা বলব আমরা..’ মেয়েটি কাছে এসে, জয়শ্রীর দিকে বড় বড় করে তাকালেন। তারপরে কেঁদে ফেললেন। তারপরে বললেন, ‘আমি তোমাদের দেশ সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। তোমার বউ তো বাঙালি। বাঙালিরা ভীষণ সুন্দর দেখতে হয়। আমি ওর কাছে পারিনি। আমি আর তোমায় বিরক্ত করব না।’
(Feed Source: abplive.com)
