
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে WhatsApp-এর এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা সবসময় এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ করছি, যারা আমাদের পরিষেবার অপব্যবহার করার চেষ্টা করে। অন্য ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে আমরা প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধও করি। তবে কখনও কখনও ভুলবশত কোনও অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়ে যেতে পারে। এমন হলে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সেই ভুল সংশোধন করে ব্যবহারকারীদের আবার চ্যাটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি।”
তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার কারণ কী, স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ভুল, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি অন্য কোনও অভ্যন্তরীণ সমস্যা, তা স্পষ্ট করেনি WhatsApp। কতগুলি অ্যাকাউন্ট এই সমস্যায় পড়েছে, সেই তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
যাঁদের অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনায় গিয়েছে, তাঁদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, কয়েক মিনিট আগেও স্বাভাবিকভাবে WhatsApp ব্যবহার করছিলেন, কিন্তু আচমকাই অ্যাকাউন্ট “Under Review” হয়ে যায়।
এক ব্যবহারকারী জানান, কোনও কারণ ছাড়াই তাঁর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপিল করার পরেও শুধুমাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যালোচনা শেষ হওয়ার সাধারণ বার্তাটিই দেখা যাচ্ছে। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানের আবেদন জানান। আরও অনেক ব্যবহারকারী X-এ দাবি করেছেন, ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং হঠাৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিযোগের বন্যা বইতে শুরু করে।
ভারতীয় সময় রাত প্রায় ৮টা থেকে সমস্যার খবর সামনে আসতে শুরু করে। একাধিক ব্যবহারকারী জানান, কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই তাঁদের অ্যাকাউন্ট ‘Under Review’-এ চলে যায়। এরপর অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সাহায্যের আবেদন জানান।
ব্যবহারকারীরা অ্যাপটিতে একটি বার্তা দেখতে পান যেখানে বলা হয়, “অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। অনুরোধের তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৬। আমাদের পরিষেবার শর্তাবলী মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আপনার অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ ও ডিভাইসের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা আপনাকে এর ফলাফল জানিয়ে দেব।”
ভারতে WhatsApp-এর অ্যাকাউন্ট যাচাই বা নিষিদ্ধ করার ঘটনা নতুন নয়। স্প্যাম, স্বয়ংক্রিয় মেসেজিং এবং পরিষেবার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে প্রতি মাসেই কয়েক মিলিয়ন ভারতীয় অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে WhatsApp। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি বিধি (IT Rules) অনুযায়ী প্রকাশিত মাসিক কমপ্লায়েন্স রিপোর্টে সেই তথ্য জানানো হয়।
তবে সোমবারের ঘটনাটি ছিল কিছুটা আলাদা। কারণ, এখানে অ্যাকাউন্ট সরাসরি ব্যান করা হয়নি; বরং বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করেই “Under Review” দেখাতে শুরু করে। অনেকের মতে, এটি সাধারণ নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, বরং কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ভুলের ফল হতে পারে।
যদিও WhatsApp স্বীকার করেছে যে কখনও কখনও ভুলবশত এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তবে সোমবারের এই ব্যাপক সমস্যার প্রকৃত কারণ এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
(Feed Source: news18.com)
