
Vitamins for shoulder pain: ঘুম থেকে উঠেই ঘাড়ে ব্যথা, এবং ঘাড়ের পেশি হয়ে যাওয়া…এই সমস্যায় সবাই কমবেশি ভোগেন। গরম বা বরফের শেক দিয়ে, পেইনকিলার ওষুধ খেয়ে সেইসময় হয়তো মুক্তি মেলে, কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই ফিরে আসে। ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে জানতে হবে, আসলে কেন ব্যথা হচ্ছে? পুষ্টিবিদ জানালেন, একটি নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতিতে ঘাড় স্টিফ হয়ে যায়। জেনে নিন কোন ভিটামিন…
ঘাড়ের যন্ত্রণার থেকে কষ্টদায়ক খুব কম ব্যাথাই আছে। ঘুম থেকে ওঠার সময়ে ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। ঘাড় সামান্য ঘোড়ালেই অসহ্য ব্যথায় কুঁকড়ে যেতে হয়! অনেকেই ভাবেন, পেইনকিলার ওষুধ খেলেই ব্যথা কমে যাবে। আদতে তা হয় না। সাময়িক ভাবে যন্ত্রণা কমলেও, কিছু দিন পরে ফের ফিরে আসে।
শুধুমাত্র কম্পিউটার বা ল্যাপটপে একটানা কাজ করলে, বা দীর্ঘ সময় ঘাড় নিচু করে বই পড়লে বা মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করলেই ঘাড়ে ব্যথা হয় না। পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্র বলছেন, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি। শরীরে কোন ভিটামিন কমে গেলে ঘাড়ে অসহ্য ব্যথা হয়?
‘অনুশ্রীজ ডায়েট অ্যান্ড ওয়েলনেস ক্লিনিক’-এর ফাউন্ডার পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্র জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলে ঘাড়, কাঁধের যন্ত্রণা শুরু হয়। এটি একটি স্নেহপদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন। অনেকসময়-ই একে বলে ‘সাইশাইন ভিটামিন’।
অনেকেই মনে করেন, সূর্যের আলোয় বেরলেই শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হবে না। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে ঠিকই, তবে ত্বক থেকে তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিভারে পৌঁছনো ও সেখান থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার যে পদ্ধতি, তা খুবই ধীর গতিতে হয়। সে ক্ষেত্রে খাবার থেকেই সরাসরি ভিটামিন ডি শরীরে ঢুকতে পারে।
কোন কোন খাবারে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি আছে– তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে। সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ইলিশ মাছ, রুই-কাতলার পেটি ও তেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটি, দানাশস্য ও ওটস, কিনোয়া, ডালিয়া, ফর্টিফায়েড দুধ ও দই ভিটামিন ডি-এ ঠাসা।
হঠাৎ করে খুব কঠিন ব্যায়াম করতে গেলেও অনেকের ঘাড়ের পেশিতে টান লাগে। পাশাপাশি, শরীরে প্রোটিন কমে যাওয়াও ঘাড়ের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার একটা বড় কারণ। আমিষ খাবারের মধ্যে ডিম, মাছ আর মাংস– তিনটেতেই রয়েছে প্রচুর প্রোটিন। রুই, কাতলা বা স্যামন মাছের মতো সামুদ্রিক ও দেশি মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। নিরামিষের মধ্যে দুধ, পনির, ডাল, শিম, সয়াবিন ও টোফুতেও ভরপুর প্রোটিন।
8ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলেও ঘাড়ে অসহ্য যন্ত্রণা হয়। জলের অভাবেও পেশিতে ক্র্যাম্প ধরে। তবে শুধু জল খেলেই হল না! দেখতে হবে, জলে সঠিক খনিজ পদার্থ আছে কি না। কারণ, সোডিয়াম পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলেও ঘাড় স্টিফ হয়ে যেতে পারে। যাঁরা বেশি খেলাধুলা করেন, তাঁদের ঘামের মধ্যে দিয়ে অনেকটা জম বেরিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখতে নুন জল খেতে বলা হয়।
(Feed Source: news18.com)
