)
Randeep Hooda reaches Assam: ভয়াবহ বন্যার কবলে অসম! লাখ লাখ মানুষের হাহাকারের মাঝে এবার পর্দার স্টারডম ছেড়ে সরাসরি ময়দানে নামলেন বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুডা। শিবসাগরের দুর্গত এলাকায় নিজের হাতে লঙ্গরের খাবার পরিবেশন ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বণ্টন করলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই তারকা। “মানবতার চেয়ে বড় ধর্ম আর নেই”— তাঁর এই বার্তায় মন জয় করে নিয়েছেন সকলের।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অসমের বন্যায় বুকজলে নেমে ত্রাণের ঝুলি হাতে রণদীপ হুডা! লঙ্গরে খাবার পরিবেশন থেকে ত্রিপল বণ্টন, শিবসাগরে পাশে দাঁড়িয়ে নতুন নজির। অসমের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বানভাসি মানুষের হাহাকার ছুঁয়ে গেছে গোটা দেশকে। চোখের সামনে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়া, লাখ লাখ মানুষের ভিটেমাটি হারা হওয়ার এই কঠিন সময়ে এবার সেলুলয়েডের পর্দা ছেড়ে সোজা দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়ালেন অভিনেতা রণদীপ হুডা। আসামের অন্যতম বন্যাকবলিত জেলা শিবসাগরে উপস্থিত হয়ে কেবল সাহায্য পাঠানোই নয়, নিজের হাতে লঙ্গরের খাবার পরিবেশন ও ত্রাণসামগ্রী বণ্টন করে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন এই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত তারকা।
বন্যার জলে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার পর শিবসাগর রেলওয়ে স্টেশন এবং আশপাশের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ। গত সাত দিন ধরে সেখানে একটানা ত্রাণকার্য চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘গ্লোবাল শিখস’। সেই টিমের সঙ্গেই সশরীরে যুক্ত হয়েছেন রণদীপ হুডা। ত্রাণ দেওয়ার আগে স্থানীয় শিবসাগর গুরুদ্বারে গিয়ে দুর্যোগকবলিত অসমের মানুষের আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা জানান তিনি। শিবসাগর স্টেশনে সাময়িক আশ্রয়ে থাকা দুর্গতদের জন্য রান্না করা গরম খাবার নিজ হাতে তুলে দেন রণদীপ।
‘মানবতার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই’ — রণদীপের আবেগঘন বক্তব্য
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি চলাকালীন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতা নিজের এই মানবিক উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, “শিবসাগর রেলওয়ে স্টেশনে বহু দূর-দূরান্ত থেকে আশ্রয়হীন পরিবারগুলো এসে উপস্থিত হয়েছেন। আমাদের টিম প্রতিদিন এখানে রান্না করা খাবার প্রস্তুত করছে এবং গত সাত দিন ধরে তা প্রতিনিয়ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই আমাদের একমাত্র কর্তব্য। আমি বহু বছর ধরে ‘গ্লোবাল শিখস’-এর সঙ্গে কাজ করছি, ওদের গ্রাউন্ডওয়ার্ক সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু অসম নয়, দেশের যে প্রান্তেই বিপর্যয় ঘটুক না কেন, মানবতাই যেন সবার আগে থাকে। সাহায্য করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।”
গবেষণার পর তৈরি বিশেষ ‘ত্রাণ কিট’
রণদীপ জানান, কেবল শুকনো খাবার বিতরণ করলেই এই মুহূর্তে সমস্যার সমাধান হবে না। বানভাসি মানুষগুলোর প্রতিদিনের বেঁচে থাকার উপকরণ দরকার। সেই কারণে তাঁর দল আগে থেকেই এলাকায় সার্ভে বা গবেষণা করে দুর্গতদের মূল প্রয়োজনীয়তাগুলো চিহ্নিত করেছে। ত্রাণ কিটে দেওয়া হচ্ছে, চাল, ডাল, শুকনো খাবার ও পানীয় জল। জলমগ্ন ঘরবাড়ির বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিক ও ত্রিপল। মেঝেতে বা উঁচু স্থানে ঘুমানোর জন্য বিশেষ তোশক ও ম্যাট্রেস। যে সমস্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য ঠিকমতো পৌঁছাতে পারেনি, সেখানেও রণদীপের টিম দুর্গম পথ পেরিয়ে ত্রাণ পাঠাচ্ছে।
দুর্যোগের কবলে অসম: প্রাণ হারিয়েছেন ৮২ জন
আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ইতিমধ্যেই বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮২ জন মানুষ। গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ অধিবাসী। শিবসাগরের পাশাপাশি একাধিক জেলায় জল জমে থাকায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বানভাসিদের পাশে দাঁড়াতে ইতিমধ্যেই শিল্পপতি গৌতম আদানি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১১ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন, যার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
পর্দার ‘সাভারকর’ থেকে বাস্তব জীবনের নায়ক
সম্প্রতি নিজের পরিচালিত ও অভিনীত চলচ্চিত্র ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’-এর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন রণদীপ হুডা। তবে বড় পর্দার এই সাফল্যের পরেই প্রচারের আলো থেকে দূরে গিয়ে সোজা আসামের বন্যাবিধ্বস্ত কাদা-জলে নেমে তাঁর এই কাজ অনুপ্রাণিত করেছে অনুরাগীদের। সেলিব্রিটি ইমেজের বাইরে গিয়ে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তিনি প্রমাণ করলেন— রিল লাইফের চেয়ে রিয়েল লাইফের ‘নায়ক’ হয়ে ওঠাই আসল সাফল্য।
(Feed Source: zeenews.com)
