)
বিশ্বের ‘রিচেস্ট ম্যান’ ইলন মাস্ক, প্রথম লক্ষ কোটিপতি ধনকুবেরও…তাহলে কেন আজও ভাড়ার বাড়িতেই থাকেন? মা বাড়ি গিয়ে দেখলেন ছেলে ঘুমিয়ে গ্যারেজে!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্পেসএক্সের পিঠে চড়েই গত জুনে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হয়েছেন। যার মানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ অন্তত এক ট্রিলিয়ন বা ১ লক্ষ কোটি টাকা! লক্ষ কোটিপতি ধনকুবের মাস্ক কিন্তু অধিকাংশ বিলিয়নেয়ারের মতো কোনও বিলাসবহুল প্রাসাদে থাকেন না। বরং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি টেক্সাসের একটি ছোট ভাড়া বাড়িতে বাস করেন এবং অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন তাঁর!
মাস্কের সাদামাটা বাড়ি!
টেক্সাসের বোকা চিকায় স্পেসএক্সের ‘স্টারবেস’ সদর দফতরের কাছে অবস্থিত ৫০ হাজার ডলার মূল্যের দু’টি শোওয়ার ঘরবিশিষ্ট একটি প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড (আগে থেকে তৈরি) বাড়িই মাস্কের প্রধান বাসস্থান। বাড়িটি তিনি স্পেসএক্সের থেকেই ভাড়া নিয়েছেন। তাঁর জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের মতে, মাস্কের বাড়ি অত্যন্ত সাদামাটা এবং এতে বিলাসিতার বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই। জানা যায়, মাস্ক একটি সাধারণ কাঠের টেবল-চেয়ারই তাঁর কাজের জায়গা। আরাম-আয়েশের চেয়ে বাস্তববাদী চিন্তাধারাকেই বেশি গুরুত্ব দেন জীবনে। সম্প্রতি মাস্কের মা, মায়ে মাস্ক ছেলের বাড়িতে এসে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। মা বলেছিলেন যে, ছেলের বাড়ির ফ্রিজে খুব একটা খাবারও ছিল না এবং মাস্ক গ্যারেজে ঘুমোতেন। এছাড়া তিনি লক্ষ্য করেন যে, বাথরুমে শুধুমাত্র একটি ছোট তোয়ালেই ছিল।
কাজের উপরেই লাইফস্টাইল
মাস্ক কাজকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। কয়েক বছর আগে যখন তিনি তাঁর স্বপ্নের গাড়ি টেসলা উৎপাদনে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন তাঁর কাজের তদারকির সুবিধার্থে তিনি কারখানার মেঝেতেই রাত কাটাতেন! যা বেশ আলোচিত হয়েছিল। ২০২০ সালে টেক্সাসে স্থানান্তরিত হওয়ার পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তাঁর অধিকাংশ সম্পত্তিই বিক্রি করে দেন এবং নিজের রিয়াল এস্টেটের পরিমাণ কমিয়ে আনেন। অস্টিনের কাছে মাস্কের নিজস্ব সম্পত্তি এবং তাঁর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির টেক্সাসে একাধিক বড় বাড়ি থাকলেও, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে স্পেসএক্সের লঞ্চ প্যাডের পাশে অবস্থিত একটি ছোট বাড়িতেই বেশি সময় কাটান।
মাস্কের ট্রিলিয়ন ডলার সম্পত্তি
স্পেসএক্স-এর রেকর্ড-ভাঙা আইপিও-র পর মাস্কের সম্পদ আবারও বিপুল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংয়ের মাধ্যমে ৭৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগৃহীত হয়েছিল এবং কোম্পানির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। মহাকাশ গবেষণার এই বিশাল প্রতিষ্ঠান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ‘লঞ্চ প্রোভাইডার’ বা মহাকাশযান উৎক্ষেপণকারী সংস্থা হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের জন্য তাদের অত্যাধুনিক স্টারশিপ রকেট তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিপুল সম্পদ ও স্পেসএক্সের দ্রুত অগ্রগতির পরেও মাস্ক অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করেন। টেক্সাসে কোম্পানির সদর দফতরের কাছেই সাধারণ ভাড়া বাড়িতে থাকছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
