)
SpaceX’s 4000-kg Rocket: প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের এবং ৫ তলা বাড়ির সমান বড় এই রকেটটি প্রায় ৮৬৯০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিবেগে চাঁদের গায়ে ধাক্কা মারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ (NASA) জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে পৃথিবীর কোনো বিপদ নেই।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্পেসএক্স-এর ৪০০০ কেজির রকেট আছড়ে পড়ল চাঁদে! ৮৬৯০ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগে ঘুরছিল মহাকাশে! নাসা জানিয়েছে, এতে পৃথিবীর কোনো বিপদ নেই! ইলন মাস্কের সংস্থা ‘স্পেসএক্স’-এর একটি অনিয়ন্ত্রিত রকেট চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে। প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের এবং ৫ তলা বাড়ির সমান বড় এই রকেটটি প্রায় ৮৬৯০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিবেগে চাঁদের গায়ে ধাক্কা মারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ (NASA) জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে পৃথিবীর কোনো বিপদ নেই।
মহাকাশেই ভাসছে
এই অনিয়ন্ত্রিত বস্তুটি স্পেসএক্স-এর ‘ফ্যালকন ৯’ (Falcon 9) রকেটের উপরের অংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ফ্লোরিডা থেকে আমেরিকা ও জাপানের দুটি লুনার ল্যান্ডার মহাকাশে পাঠানোর জন্য এটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মিশন সম্পূর্ণ হওয়ার পর রকেটের এই অংশটি মহাকাশেই ভাসতে থাকে।
১৮ মাসে ধরে
গত ১৮ মাসে পৃথিবী, চাঁদ এবং সূর্যের মহাকর্ষীয় টানের কারণে এর গতিপথ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে আগেই অনুমান করেছিলেন, পথভ্রষ্ট রকেটটি সরাসরি চাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত সেখানেই আছড়ে পড়বে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি কেনেডি স্পেস সেন্টারের ফ্লোরিডার লঞ্চ সেন্টার ৩৯এ থেকে ‘ব্লু ঘোস্ট’ এবং ‘হাকুতো-আর’ নামক দুটি ল্যান্ডার নিয়ে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন ৯ রকেটটি উড়াল দিয়েছিল।
চাঁদে ধাক্কা
এই ধাক্কাটি ঘটেছে চাঁদের ‘আইনস্টাইন ক্রেটার’ (Einstein Crater)-এর কাছে। এটি চাঁদের সেই অংশে অবস্থিত যেখানে দিনের আলো থাকে এবং যা পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ টেলিস্কোপ দিয়ে এটি দেখা অসম্ভব ছিল, কারণ সংঘর্ষের সময়ে আলো ছিল অত্যন্ত কম। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ম্যাট বোথওয়েল জানান, এই সংঘর্ষের ফলে চাঁদের ধূলিকণার একটি বিশাল মেঘ বা গুচ্ছ তৈরি হয়েছিল, যা আকাশে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উপর পর্যন্ত উঠে যায় এবং বেশ কয়েক মিনিট স্থায়ী ছিল।
কতটা ক্ষত চাঁদের বুকে?
কতটা ক্ষত চাঁদের বুকে? এখনই ছবি মিলবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘দানুরি’ (Danuri) অরবিটার এবং নাসার ‘লুনার রিকনিসেন্স অরবিটার’ (LRO) আগামী দিনে এই সংঘাতের স্থানের উপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় ছবি তুলবে। বিজ্ঞানীরা পুরোনো এবং নতুন ছবির তুলনা করে চাঁদের পৃষ্ঠে তৈরি হওয়া নতুন গর্ত বা দাগ শনাক্ত করবেন।
চাঁদে জমা ১৯০ টন বর্জ্য
এই ঘটনার পরে চাঁদে মানুষের ফেলে যাওয়া বা দুর্ঘটনাকবলিত বস্তুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০০! এগুলির মোট ওজন প্রায় ১৯০ টন। ১৯৫৯ সালের সেপ্টেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘লুনা ২’ ছিল চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানো প্রথম মানবসৃষ্ট বস্তু। এছাড়া নাসার একক ‘অ্যাপোলো প্রোগ্রাম’-এর সঙ্গেই যুক্ত প্রায় ৭৯৬টি বস্তু চাঁদে রয়ে গিয়েছে। চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল বা পরিবেশ না থাকায় এই বর্জ্য সেখানে কোনো বাস্তুতন্ত্রের (Ecosystem) ক্ষতি করে না। তবে বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন যে, ভবিষ্যতে চাঁদে মহাকাশযানের আনাগোনা বৃদ্ধি পেলে ঐতিহাসিক অ্যাপোলো ল্যান্ডিং সাইটগুলির ক্ষতি হতে পারে এবং নতুন মহাকাশযানগুলির সংঘর্ষের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
কী লাভ হবে এই সংঘাত থেকে?
সায়েন্স মিউজিয়ামের মহাকাশ সংক্রান্ত বিষয়ের প্রধান লিব্বি জ্যাকসনের মতে, এটি বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক পরীক্ষা, কারণ রকেটের গতি, ওজন এবং আকারের তথ্য তাঁদের কাছে আগেই মজুদ ছিল। সাধারণত যখন কোনো প্রাকৃতিক উল্কাপাত চাঁদে আছড়ে পড়ে, তখন বিজ্ঞানীদের কাছে তার প্রাথমিক কোনো ডেটা থাকে না। এই সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া নতুন গর্ত এবং ধূলিকণার স্তর অধ্যয়ন করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন যে, কোটি কোটি বছর আগে চাঁদ এবং আমাদের সৌরজগৎ কীভাবে গঠিত হয়েছিল। উপরের অংশ ধ্বংস হলেও ১৮তম উড়ানের প্রস্তুতিতে বুস্টার স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন ৯ রকেটের নীচের অংশটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য (Reusable)। একে বলা হয় ‘বুস্টার’, যা অবতরণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের যে মিশনের উপরের অংশটি পথভ্রষ্ট হয়ে চাঁদে আছড়ে পড়েছে, সেই রকেটেরই নীচের বুস্টারটিকে ১৮তম বারের মতো পুনরায় মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
