
West Medinipur News: নিজের অদম্য ইচ্ছা থাকলে যে সবই সম্ভব, সেটাই প্রমাণ করেছেন অভিজিৎবাবু। তাঁর এই বিরল কীর্তি আজ শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, গোটা রাজ্যের কাছেই এক বড় অনুপ্রেরণা।
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: পেশায় তিনি আইনজীবী, কিন্তু নেশা তাঁর পুরনো ইতিহাস সংরক্ষণ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শরৎপল্লী এলাকার বাসিন্দা অভিজিৎ সামন্ত এমনই এক ব্যতিক্রমী নেশায় বুঁদ। আইনের জটিল প্যাঁচ আর যুক্তির লড়াইয়ের মাঝেও মনের গভীরে তিনি লালন করেন এক অন্য জগত। প্রতিদিনের ব্যস্ততার ফাঁকে তিনি সময় বের করেন বাগান করা এবং পুরনো মুদ্রা সংগ্রহের জন্য। তাঁর এই অভাবনীয় ধৈর্য আর একাগ্রতাই তাঁকে এনে দিয়েছে জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি। বাবা একসময় কিছু পুরনো কয়েন দিয়েছিলেন, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর এই পথচলা। সাধারণ ছিপচিপে চেহারার এই মানুষটির ভাবনা আগামী প্রজন্মের জন্য বিস্তৃত।
সময়ের স্রোতে সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে বহু পুরনো জিনিস। দৈনন্দিন জীবনে এককালের অতি প্রয়োজনীয় ১০ পয়সা এখন শুধুই ইতিহাসের পাতায়। আগেকার দিনে দশ পয়সায় বাবা-দাদুরা অনেক কিছুর কেনাকাটা করতেন। কিন্তু বর্তমানে টাকার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই পুরনো দশ পয়সার আর কোনও ব্যবহার নেই। সাধারণ মানুষের চোখে যা আজ মূল্যহীন, অভিজিৎবাবুর কাছে তা অমূল্য সম্পদ। কালের নিয়মে বাতিল হয়ে যাওয়া সেই দশ পয়সাই সযত্নে সংরক্ষণ করে চলেছেন এই আইনজীবী। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগ্রহের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম পুরনো দিনের কথা জানতে পারবে।
মুদ্রা জমানোর এই নেশাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ নিজের নাম তোলার জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক ভিন্ন পথ। তিনি ১৯৯৭ সালের চকচকে ১০ পয়সার মুদ্রা সংগ্রহ করা শুরু করেন। অবাক করার মত বিষয় হল, একটি বা দুটি নয়, তিনি তিল তিল করে জমিয়েছেন ঠিক ৭,৯৭৪টি দশ পয়সার মুদ্রা। প্রায় আট হাজার দশ পয়সার কয়েন জমিয়ে তিনি যে নজির গড়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ের আরও অনেক পুরনো কয়েন তাঁর সংগ্রহে রয়েছে।
কোর্টের ব্যস্ত রুটিন সামলে নিজের এই শিল্পের জগতকে টিকিয়ে রাখা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তবে নিজের অদম্য ইচ্ছা থাকলে যে সবই সম্ভব, সেটাই প্রমাণ করেছেন অভিজিৎবাবু। তাঁর এই বিরল কীর্তি আজ শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, গোটা রাজ্যের কাছেই এক বড় অনুপ্রেরণা। তিনি মনে করেন, পুরনো ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। একজন আইনজীবীর এই ইতিহাস প্রীতির কারণে এখন আনন্দে মেতে উঠেছে তাঁর পরিবার থেকে শুরু করে সমগ্র শরৎপল্লী এলাকা। এমন একজন মানুষের কাজ সত্যিই খুব ভাল এবং প্রশংসনীয়।
