)
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতার বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় বড় মোড়! শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে নিজের আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিলেন সঙ্গীতা। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের পর এই সিদ্ধান্ত বিজয় ও তাঁর সমর্থকদের জন্য এক বড় স্বস্তি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আইনি জট শেষে অবশেষে স্বস্তির খবর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ও গ্ল্যামার জগতে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয় এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গমের মধ্যকার বৈবাহিক বিবাদের আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল। আজ, শুক্রবার চেনগলপট্টুর পারিবারিক আদালতে চলা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সঙ্গীতা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তিনি নিজেই আদালতকে তাঁর মামলা ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। এর পরই বিচারক মামলাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে বন্ধ ঘোষণা করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই হঠাৎ আলোড়ন সৃষ্টি হয়, যখন সঙ্গীতা চেনগলপট্টু আদালতে বিজয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন দায়ের করেন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে ‘অপূরণীয় মতবিরোধ’ বা ‘ইরেকনসিলেবল ডিফারেন্সেস’-কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। আবেদনে কেবল বিচ্ছেদই নয়, স্থায়ী খোরপোশ এবং চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাইয়ে অবস্থিত দম্পতির যৌথ বাসভবনে তাঁর বসবাসের অধিকারের দাবিও জানিয়েছিলেন সঙ্গীতা। তবে কয়েক মাসের আইনি টানাপোড়েন ও বারবার স্থগিতাদেশের পর, নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ জুন শুনানির সময়েই সঙ্গীতা আইনি লড়াই থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেবারও দূরস্থ মাধ্যমে উপস্থিত থেকে তিনি মামলা প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। যার ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল ৭ আগস্ট। মাঝে গত মাসে উভয় পক্ষের অনুপস্থিতে শুনানি সাময়িকভাবে স্থগিত হলেও, নির্ধারিত দিনে সঙ্গীতা নিজে উপস্থিত থেকে আবেদন প্রত্যাহারের মূল কারণসমূহ বিচারকের সামনে তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে প্রায় ছ’মাস ধরে চলা এই হাই-প্রোফাইল মামলার আইনি নিষ্পত্তি ঘটল।
দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার থেকে রাজনীতির ময়দানে বিজয় এবং সঙ্গীতার সম্পর্কের ইতিহাস প্রায় তিন দশকের পুরোনো। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে এক প্রথাগত হিন্দু পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তঃধর্মীয় বিয়েতে আবদ্ধ হয়েছিলেন দু’জনে। তাঁদের পারিবারিক জীবনে রয়েছে দুই সন্তান— ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া পুত্র এবং ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া কন্যা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারকা দম্পতি হিসেবে সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছেন তাঁরা।
তবে বিগত কয়েক বছর ধরে তাঁদের সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছিল। ২০২৩ সাল থেকে বিজয়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীতার অনুপস্থিতি ভক্ত ও মিডিয়া মহলে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। প্রথম দিকে পরিবার বা ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বিচ্ছেদের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও, সম্প্রতি রাজ্য রাজনীতিতে বিজয়ের পূর্ণাঙ্গ পদার্পণের সময়েও ছবিটা বদলায়নি। বিশেষ করে, বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’-এর দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনের মতো মেগা রাজনৈতিক ইভেন্টেও সঙ্গীতার অনুপস্থিতি তাঁদের পারিবারিক দূরত্বের তত্ত্বকে জোরালো করেছিল।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বিজয় বর্তমানে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক মুখ। তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘টিভিকে’ সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা রাজ্যে ডিএমকে এবং এআইডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বহু দশকের একচ্ছত্র আধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএল-এর মতো একাধিক দলের সমর্থনে তামিলনাড়ুতে বহু বছর পর এক ঐতিহাসিক জোট সরকার গঠিত হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হন বিজয়। রাজ্য সামলানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এই আইনি জটিলতা কাটে কি না, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর ছিল সবার। পরিশেষে, আদালতের মাধ্যমে এই আইনি ইতি তাঁর সমর্থক এবং অনুগামীদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
