)
বিসিসিআই আবারও ফিটনেসকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরই বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে ফিটনেসের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আবারও ফিটনেস ইস্যুতে ভয়ংকর কড়া অবস্থান নিয়েছে। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে চরম হতশ্রী রেজাল্টের পরই বিসিসিআই নড়েচড়ে বসেছে। বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সিলেন্স টিম ফিটনেসের ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণের জন্যই এখন কাজ করছে। এই পরিস্থিতি এমন সময়ে এসেছে যখন হর্ষিত রানা, জসপ্রীত বুমরা এবং অন্যান্য শীর্ষ তারকাদের চোট ভারতীয় দলকে রীতিমতো চাপে ফেলেছে। এক সর্বভারতীয় মিডিয়ার রিপোর্ট বলছে, বিসিসিআইয়ের মেডিক্য়াল টিম (সিওই এবং ভারতীয় দল থেকে) ‘খেলোয়াড়দের ফিটনেস মূল্যায়নে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।’ গতবছর স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ সোহম দেশাইয়ের জায়গায় আদ্রিয়ান লে রু-র যোগদানের পরই ফিটনেস যাচাইয়ের প্রধান পদ্ধতি হিসেবে ইয়ো-ইয়ো টেস্টের পরিবর্তে ব্রঙ্কো টেস্ট চালু হয়েছে। তবে এতদিন পর্যন্ত এর কোনও নির্দিষ্ট মানদণ্ড বা প্যারামিটার ছিল না। এখন থেকে নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হতে হলে সংশ্লিষ্ট ড্রিলগুলি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ৫.১৫ থেকে ৫.২০ মিনিট সময়সীমাকে মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছে বোর্ডের মেডিক্য়াল টিম।
হর্ষিতের ওজন বেশিই ছিল!
‘ভারতীয় খেলোয়াড়রা ব্রঙ্কো টেস্টের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। গত এক বছরে সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে খেলোয়াড়দের জন্য বিভিন্ন বেসলাইন প্যারামিটার নির্ধারণ করেছিল। এখন জানা যাচ্ছে যে, ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য কিছু সিনিয়র খেলোয়াড়কে অনেক সহজ লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দলের ম্য়ানেজমেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলোয়াড় সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিওই-র কর্মীরা হর্ষিত রানা ও নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো খেলোয়াড়দেরও ছাড়পত্র দিয়েছিল। ইন্ডিয়ান টিম ম্য়ানেজমেন্ট জানিয়েছিল যে, হর্ষিত রানার ওজন নির্ধারিত সীমার চেয়ে চার কেজি বেশি ছিল। সিওই-র আরও অনেক বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। সিওই-র কর্মীরা তাঁকে এখন জানিয়ে যে তাঁর ওজন ৯৬ কেজির বেশি হওয়া চলবে না। বর্তমানে তার ওজন ৯৪ কেজি এবং আশা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহে তিনি ফিটনেস ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন। অথচ ইংল্যান্ড সফরের জন্য ভারতীয় দলে নির্বাচনের সময় ছাড়পত্র পাওয়ার সময়ে হর্ষিতের ওজন ছিল ৯৭ কেজি।’ বিসিসিআই-এর এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই লিখেছে ওই মিডিয়া।
সিরাজও ছিলেন ‘ওভারওয়েট’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ভারতের নিয়মিত খেলোয়াড়দের নতুন ফিটনেস অনুশীলন বা ড্রিল সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। এতে বিশেষ করে মহম্মদ সিরাজের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরের আগে সিওই-তে হঠাৎ আয়োজিত ফিটনেস টেস্টের বিষয় তাঁকে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিআই ম্যাচে ক্র্যাম্প বা পেশিতে টান লাগার পর দেখা যায় যে সিরাজের ওজন প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই ছিল। হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর তিনি তখন দলে ফেরার প্রক্রিয়ায় ছিলেন।
