New Tourist Attraction: ইতিহাস ‘অবহেলার’ দিন শেষ, এবার সস্তায় পাবেন নয়া অফবিট ডেস্টিনেশন! পর্যটকদের জন্য কী কী থাকবে? এখনই দেখে রাখুন

New Tourist Attraction: ইতিহাস ‘অবহেলার’ দিন শেষ, এবার সস্তায় পাবেন নয়া অফবিট ডেস্টিনেশন! পর্যটকদের জন্য কী কী থাকবে? এখনই দেখে রাখুন

New Tourist Attraction: সমৃদ্ধ ইতিহাস, রহস্য আর বিশাল জলাভূমির অপরূপ প্রাকৃতি সৌন্দর্যের মেলবন্ধন ‘শরশঙ্কা দিঘি’। দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে ঐতিহাসিক এই পর্যটন ক্ষেত্রকে নতুন রূপ দিতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। সম্প্রতি কৃষি সেচ দফতরের শীর্ষ প্রকৌশলী ও আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক।

ইতিহাস সমৃদ্ধ এই জায়গা পর্যটকদের জন্য সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে

দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: বাংলার অন্যতম দীর্ঘ ও প্রাচীন মনুষ্যসৃষ্ট জলাশয় হল শরশঙ্কা দিঘি। মনে করা হয়, গৌড়রাজ শশাঙ্কের আমলেই এই বিশালাকার দিঘিটি খনন করা হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বেশ কিছু ভিন্ন মত রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে এই বিশাল পুষ্করিণী। কিন্তু কালের নিয়মে এবং উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এটি তার পুরনো জৌলুস হারিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বাংলার অন্যতম বৃহৎ এই জলাশয়টি এখন সম্পূর্ণ কচুরিপানায় ঢাকা পড়ে রয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে এই দিঘির সংস্কার নিয়ে একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছিল। সেই সময় বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে তার কোনও রূপায়ণ ঘটেনি। ফলে পর্যালোচনার খাতা ছাপিয়ে শরশঙ্কা দিঘির উন্নয়নের কাজ আর এগোয়নি। দিনের পর দিন অযত্নে পড়ে থাকায় স্থানীয় মানুষের মনে ক্ষোভ জমেছিল। তবে এবার সেই সব পুরনো প্রতিশ্রুতি দূরে সরিয়ে রেখে ঐতিহাসিক এই দিঘিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন কেশিয়াড়ির বিধায়ক ভদ্র হেমরম। তাঁর এই পদক্ষেপে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন এলাকার মানুষ।

সম্প্রতি নিজের শারীরিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা করেই এগ্রি ইরিগেশন বা কৃষি সেচ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দাঁতন-১ নম্বর ব্লকে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক জলাশয় পরিদর্শনে যান বিধায়ক। দিঘিটির পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে অক্ষুণ্ণ রেখে এটিকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিধায়ক জানিয়েছেন, প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত রকম পরিকল্পনার রূপায়ণ চলছে। দিঘির কচুরিপানা পরিষ্কার করে মাছ চাষের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করার কাজ খুব দ্রুত শুরু হবে।

এর পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য দিঘির চারপাশের রাস্তাকে কংক্রিট দিয়ে পাকা করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। এই পুষ্করিণীর চারপাশ সুন্দর করে সাজিয়ে তুলে যাতে আরও বেশি সংখ্যক পর্যটক আকর্ষণ করা যায়, তার জন্য সৌন্দর্যায়নের কাজও করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে এই স্থানটিকে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে একটি বিশিষ্ট জায়গা করে দেওয়ার সব রকম চেষ্টা চালানো হবে। বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই প্রাচীন দিঘিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হলে এলাকার অর্থনীতি ও পর্যটনে অভাবনীয় উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

(Feed Source: news18.com)