)
Soaring Petrol Prices in Pakistan: আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে পাকিস্তান একদিকে নিজেকে বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে ঠিকই। কিন্তু ওদের ঘরের ভিতরেই মহা সংকট! দেশে পেট্রোল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি! চরম দুরবস্থায় সাধারণ মানুষ। সাধারণের তীব্র ক্ষোভের মুখে দেশের সরকার।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে তারা কি সরে যাবে? নিজেদের ঘর পুড়ছে। এই অবস্থায় আগে তো ঘর সামলাতে হবে। মার্কিন-ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটপর্বে ভুক্তভোগী পাকিস্তানও। তারা নিজেদের মতো এই দুই দেশের ঝামেলা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করছে অনেক দিন ধরেই। কিন্তু তাদের নিজেদের দেশেই জিনিসপত্র সব অগ্নিমূল্য। হু হু করে বাড়ছে পেট্রলের দাম। হাত পুড়ছে মুদিখানা আনাজ ইত্যাদি জিনিসে হাত দিলে। এখন তাই ক্ষোভে ফুঁসছে পাকবাসী। শুক্রবার এ নিয়ে মানুষ রাস্তাতেও নামল। তেলের উপর কর কমানো ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিবারণের দাবিতে জামাত-ই-ইসলামি এক মিছিল নামায়। সেই মিছিলে যোগ দেন হাজার হাজার অসহিষ্ণু মানুষ।
আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে পাকিস্তান একদিকে নিজেকে বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে, কিন্তু অন্য দিকে দেশের ভেতরে পেট্রোল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েছে। পেট্রোলিয়াম লেভি (ট্যাক্স) বৃদ্ধি ও অনিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল জমাত-ই-ইসলামি-র ডাকে শুক্রবার দেশ জুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেন।
দেশজুড়ে বিক্ষোভ-অবস্থান
করাচি, লাহোর, পেশোয়ার, কোয়েটা, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি এবং অ্যাবটাবাদে এই বিক্ষোভ হয়েছে। করা হয়েছে পথ অবরোধ। শহরগুলির প্রধান প্রধান রাস্তায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: “অনেক হয়েছে, আর নয়”, “লেভি প্রত্যাহার করো, সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দাও” এবং “আমরা কোনো লেভি ছাড়া ২২৫ টাকা দামে জ্বালানি চাই”।” এই মর্মে সরকারকেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। জমাত-ই-ইসলামি প্রধান হাফিজ নাঈমুর রহমান সরকারের করনীতির তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার, তার আগের সরকার এবং তারও আগের সরকার– সবাই একই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। এই কারণেই এই লেভি কর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শাহবাজ শরিফ এবং আপনার মন্ত্রীরা স্পষ্ট শুনে রাখুন: এই লেভি আপনাদের অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।”

৮ লক্ষ কোটি টাকা লাভ!
অভিযোগ, পাক সরকার পেট্রোলিয়াম লেভির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৮ লক্ষ কোটি পাকিস্তানি রুপি সংগ্রহ করেছে এবং নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা করছে। জনগণের স্বস্তি দেওয়ার বদলে সরকার প্রভাবশালীদের সুবিধা করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
পাক-জামাত সংঘাত
সাফাই দিয়ে সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর শর্তের কারণেই এই লেভি কমানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু সরকারের এই যুক্তি মানতে চায়নি জামাত। সরকারের যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে জামাত প্রধান বলেন: “আপনারা বলছেন IMF এটা করতে দেবে না। তাহলে আপনি এবং আপনার IMF চুলোয় যাক। দরিদ্র মানুষ ও ছাত্রদের উপর অত্যাচার বন্ধ করুন। আমরা এই লেভি মানব না।” তিনি আরও জানান, মূল আন্দোলন এখনও বাকি। জ্বালানির দাম, পেট্রোলিয়াম লেভি এবং বিদ্যুতের চড়া মাশুলের প্রতিবাদে আগামী রবিবার লাহোরে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন এবং করাচি, পেশোয়ার ও কোয়েটায় রাজভবনের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থানের ডাক দেওয়া হচ্ছে।
পেট্রোলিয়াম লেভিতে দুর্ভোগ চরমে
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রণালীতে জ্বালানি সংকটের কারণে শাহবাজ শরিফ সরকার প্রতি সপ্তাহে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম পুনর্বিবেচনা করছে। এপ্রিলে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি রেকর্ড ৪৫৯ পাকিস্তানি রুপি এবং ডিজেলের দাম ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছিল। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক বাজারের দর ওঠানামার অজুহাত দেখিয়ে জ্বালানিতে দৈনিক ভিত্তিতে লেভি নির্ধারণের ব্যবস্থা চালু করা হয়, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দাম পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে খাদ্যদ্রব্য সহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নাভিশ্বাস সাধারণের
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানেও। বুধবার পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের (HSD) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। নতুন দামের ফলে দেশ জুড়ে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামেও পড়তে পারে। পেট্রোলিয়াম ডিভিশনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেই পরিস্থিতির প্রভাবই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ সেন্ট বা ১.২ শতাংশ বেড়ে ৮৩.৪৮ ডলারে পৌঁছেছে। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও বেড়েছে। এ সময় ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এর মূল্য দাঁড়ায় ৭৮.৮৪ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
(Feed Source: zeenews.com)
