
Social Media e-KYC: আপনার কি এও মনে হয় যে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সমস্ত অ্যাকাউন্টে e-KYC (ইলেকট্রনিক নো ইয়োর কাস্টমার) বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত? অনেকের মতে, তা হলে নাগপুরের মতো ঘটনা আটকানো যেত, যেখানে ১৬ বছরের এক কিশোরী এখন জীবন-মৃত্যুর লড়াই লড়ছে । এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের e-KYC বাধ্যতামূলক করার দাবি ও জল্পনা ক্রমশ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া যেমন মানুষকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, তেমনই এখন এর অপব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। নাগপুরের সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের e-KYC (ইলেকট্রনিক নো ইয়োর কাস্টমার) বাধ্যতামূলক করার দাবি আরও জোরালো করেছে। বহু বিশেষজ্ঞের মতে, Facebook, Instagram-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় e-KYC চালু হলে নাগপুরের মতো ঘটনা অনেকটাই রোখা সম্ভব। বর্তমানে সেখানে ১৬ বছরের এক কিশোরী জীবন-মৃত্যুর লড়াই লড়ছে।
প্রথমে জেনে নেওয়া যাক, নাগপুরে এমন কী ঘটেছিল, যা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কয়েক দিন আগে নাগপুরে এক যুবক ভুয়ো নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুলে এক সরকারি আধিকারিকের মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে বিশ্বাস অর্জনের পর ওই ১৬ বছরের কিশোরীকে দেখা করার জন্য ডাকে। এরপর তাকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কিশোরীকে বন্দি করে রাখে, মারধর করা হয় এবং যৌন নির্যাতন করা হয়। এক পিৎজা ডেলিভারি কর্মীর উপস্থিত বুদ্ধির জেরে অভিযুক্ত ধরা পড়ে। বর্তমানে কিশোরীর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার পর আবারও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে e-KYC বাধ্যতামূলক করার দাবি জোরদার হয়েছে।
e-KYC কী? সোশ্যাল মিডিয়ার e-KYC অনেকটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা LPG সংযোগের KYC-র মতোই হবে। অর্থাৎ Facebook, Instagram বা অন্য কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে সরকারি পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিজের পরিচয় যাচাই করতে হবে। এর জন্য আধার, PAN, ভোটার আইডি বা পাসপোর্ট-এর মতো নথি ব্যবহার করতে হতে পারে। এর ফলে ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
কমতে পারে অনলাইন অপরাধ: সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে e-KYC চালু হলে অনলাইন অপরাধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি কমানোও সহজ হতে পারে। কোনও অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং তদন্তও সহজ হবে। বর্তমানে বহু প্রতারক ভুয়ো নামে অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। সব অ্যাকাউন্টের KYC বাধ্যতামূলক হলে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
নাবালকদের সুরক্ষায়ও বড় ভূমিকা: সোশ্যাল মিডিয়ায় নাবালকদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। Facebook, Instagram-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বহু নাবালক-নাবালিকা নিজের প্রকৃত বয়স বা পরিচয় গোপন রেখে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে। ফলে তারা সহজেই প্রতারক বা অপরাধীদের ফাঁদে পড়ে যায়। e-KYC চালু হলে নাবালকদের প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে অনুপযুক্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা সহজ হবে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধও কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি, নাবালকদের আপত্তিকর বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্টে প্রবেশও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তবে বিষয়টির অন্য দিকও রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় e-KYC বাধ্যতামূলক হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) এবং ডেটা ফাঁসের (Data Leak) ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই এই ধরনের ব্যবস্থা চালুর আগে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
(Feed Source: news18.com)
