)
Dharmendra Pradhan resignation: সম্প্রতি এক সভায় নিজের পদত্যাগের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, পদ নয় বরং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, বিজেডি নেতা রোহিত পূজারী পাল্টা অভিযোগ জানান।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জেন জি-দের আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হতে হয়। বিতর্ক ও বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করার ঠিক দুই সপ্তাহ পর, গত শনিবার ভুবনেশ্বরের জিএম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বিস্ফোরক কথা বলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। গত ২৫ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
জিএম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে ধর্মেন্দ্র বলেন, ‘জেন জি আমাদেরই সন্তান। কিছু মানুষ তাদের ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করেছিল।’ পদ নিয়ে তাঁর কোনও মোহ নেই উল্লেখ করে বিজেপি সাংসদ জানান, প্রতি বছর ভারতে অন্তত দুই কোটি শিশু জন্ম নেয়। গত ১০ বছরে ২০ কোটি শিশুর জন্ম হয়েছে। তাদের নানা স্বপ্ন রয়েছে এবং তারাই ভারতকে একদিন ‘বিশ্বগুরু’ বানাবে। তাই নিজের পদের চেয়ে এই তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ তাঁর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর রাইরাখোল এলাকার একটি সভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়কের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান ধর্মেন্দ্র। বিমানবন্দরে বিজেডির ছাত্র ও যুব সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান গো ব্যাক’ স্লোগান দেয় এবং তাঁকে ওড়িশার লজ্জা বলে কটাক্ষ করে। এর জবাবে ধর্মেন্দ্র বলেন, ‘আমি এক চাষির ছেলে। আমাকে যতবারই ‘গো ব্যাক’ বলা হোক না কেন, আমি বারবার ফিরে আসব। আমি এমন কোনও কাজ করিনি যা ওড়িশার মানুষকে লজ্জিত করে। হয়তো রাজ্যের জন্য বড় কোনও নাম অর্জন করতে পারিনি, কিন্তু ওড়িশার সম্মানহানি হয় এমন কাজ কখনও করিনি।’
কাকতালীয়ভাবে, যে মঞ্চে ধর্মেন্দ্র বিজেডি সুপ্রিমোর সমালোচনা করছিলেন, সেখানে বিজেডি বিধায়ক তথা বিধানসভার উপনেতা প্রসন্ন আচার্যও উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে ধর্মেন্দ্র জানান, বিজেডির বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে তিনি আগেই প্রসন্নবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। প্রসন্নবাবুই তাঁকে আশ্বস্ত করে অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানান। অন্যদিকে, এই সফরের সময় বিজেডির সম্ভাব্য প্রতিবাদ এড়াতে সম্বলপুর পুলিস আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রায় ৩০ জন বিজেডি কর্মীকে আটক করে।
ধর্মেন্দ্রর বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেডি। দলটির সম্বলপুর জেলা সভাপতি রোহিত পূজারী জানান, কোনও বিরোধী দল নয়, বরং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারই পুলিস নামিয়ে শান্তিকামী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস চালিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। যন্তরমন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিসের এই অত্যাচারের দায় কোনওভাবেই নবীন পট্টনায়কের ওপর চাপানো যায় না। পূজারী আরও দাবি করেন, নিট কেলেঙ্কারির ভুল নীতির কারণে প্রায় ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে এবং পরীক্ষা দেওয়া ২২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২১ লাখই মারাত্মক মানসিক অবসাদে ভুগছে। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
