)
Saudi-Pakistan-Turkey Pact Explained: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক গত শুক্রবার এক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি ন্যাটোর মতো একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের আলোচনাও উসকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। যা ক্ষমতার ভারসাম্যটাকেই বদলে দিতে পারে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নয়া জোট! নতুন সমীকরণ! সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক গত শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি কি ন্যাটোর মতো কিছু একটা? বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে এক শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের আলোচনাও উসকে দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, যা ঘটলে সন্নিহিত অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যটাই বদলে যেতে পারে। এ নিয়ে সতর্ক ভারত। উদ্বেগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কেন?
বিকল্প একটি নিরাপত্তা-কাঠামো
ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হয়েছে এক নিরাপত্তাহীনতার বাতাবরণ। এদিকে এই অস্থির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই নতুন এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্র বলে পরিচিত পারস্য উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশগুলির উপর তেহরানের পাল্টা আঘাত মূলত মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের সীমাবদ্ধতাকেই বিশ্বের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিই কি আরব দেশগুলিকে বিকল্প একটি নিরাপত্তা-কাঠামোর কথা ভাবতে বাধ্য করল?
মক্কায় টেক্কা
পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান, তুর্কিয়ের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই যৌথ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই তিন দেশের যেকোনো একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলেই তা আসলে সবার উপর হামলা হিসেবেই গণ্য করা হবে। তবে ন্যাটোর ‘অনুচ্ছেদ ৫’ যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির মতো ওই ধরনের কোনও হামলার জবাবে জোটের দেশগুলি শত্রু দেশের বিরুদ্ধে কোনো যৌথ সামরিক পদক্ষেপ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা
তবে, এ কথা ঠিক, সংঘাতবিক্ষুব্ধ এ অঞ্চলে দাঁড়িয়ে তিনটি সুন্নি মুসলিম দেশের এভাবে এক যৌথ সামরিক সহযোগিতায় সামিল হওয়ার বিষয়টি এক শক্তিশালী প্রতীকী বার্তাই দিচ্ছে। সৌদি আরবের গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ বলেন, এই ত্রিপক্ষীয় কাঠামো তিনটি দেশের সম্মিলিত কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষাক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে। এ জোটের তিন অংশীদারেরই অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু নিজস্ব সম্পদ বা শক্তির জায়গা রয়েছে। যেমন, পাকিস্তান একমাত্র মুসলিম দেশ, যার পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। তুর্কিয়ের রয়েছে এক শক্তিশালী প্রতিরক্ষাশিল্প, ন্যাটোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহৎ সামরিক বাহিনী তারা। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব। এর রয়েছে বিশাল আর্থিক শক্তি ও মার্কিন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এক সেনাবাহিনীও। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তি যে রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে দেবে, হয়ে উঠবে ‘গেমচেঞ্জার’, এমনটি না-ও হতে পারে!
কী এই ‘মক্কা চুক্তি’?
কয়েক মাসের আলোচনার পরে এই ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত বছর রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে হওয়া একই ধরনের একটি চুক্তি ও তুর্কিয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে এই নতুন চুক্তি আলো দেখল। সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি রিয়াদকে একটি পারমাণবিক শক্তিসমর্থিত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন উপসাগরীয় দেশগুলির নিরাপত্তা সমীকরণ নতুন করে সাজাচ্ছে, তখন এটি সৌদির জন্য বড় শক্তির জায়গা।
ঘর গোছাচ্ছে পাকিস্তান?
ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের কয়েক হাজার সেনা, ১৬টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন, চিনে তৈরি একটি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থান করছে। আবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীতে আগে থেকেই তুর্কি ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্রব্যবস্থা রয়েছে। অনেকের মত, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলে একটি বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার লক্ষ্য রয়েছে পাকিস্তান। ভারতের কি ভয় আছে?
(Feed Source: zeenews.com)
