২৬ বিঘা জায়গা জুড়ে রয়েছে এই গ্রাম, রাতে থাকেন মাত্র দু’জন, সন্ধে নামার পর আর কেউ ঢুকতে পারবেন না…

২৬ বিঘা জায়গা জুড়ে রয়েছে এই গ্রাম, রাতে থাকেন মাত্র দু’জন, সন্ধে নামার পর আর কেউ ঢুকতে পারবেন না…

 

Birbhum News: বীরভূম জেলার মধ্যে অবস্থিত এই গ্রামে রাত্রে থাকেন মাত্র দু’জন। যদিও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের সমাগম থাকে এই গ্রামে। এই গ্রামের গল্প জানলে চমকে যাবেন।

বীরভূম, সৌভিক রায়: লাল মাটির জেলা বীরভূমের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে রয়েছে নানা অজানা কাহিনি অজানা গল্প। একসময় বহু বীরেদের রাজত্ব ছিল এই বীরভূম। সেই কারণেই এই জেলার নাম হয়েছে বীরভূম এমনটাই অন্তত মনে করা হয়। এই জেলায় রয়েছে একাধিক শিব মন্দির, কালী মন্দির, তেমনি রয়েছে পাঁচটি সতীপীঠ, রয়েছে সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ। এইসবের বাইরেও রয়েছে কবিগুরু প্রাণের শহর বোলপুর শান্তিনিকেতন। দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক কবিগুরুর টানে ছুটে আসেন এই বোলপুর শান্তিনিকেতন ভ্রমণের জন্য।

এই বোলপুর শান্তিনিকেতনের মধ্যে রয়েছে কবিগুরুর মোট পাঁচটি প্রাচীন বাড়ি, রয়েছে রবীন্দ্র সংগ্রহশালা, থেকে শুরু করে একাধিক দেখার জায়গা রয়েছে বল্লভপুর অভয়ারণ্য, সোনাঝুরির হাট। এছাড়াও রয়েছে এমন একটি গ্রাম যে গ্রাম আস্ত ২৫ থেকে ২৬ বিঘা জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এই বর্ষার মরশুমে চারিধারে সবুজ সবুজ গাছ-গাছালি পাখিদের কোলাহল এর মাঝে খুব সৃজন ভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এই গ্রামকে। এই গ্রামের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি চালাঘর সেই ঘরের মধ্যে রয়েছে পাখা আলো পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা সবকিছু।

প্রত্যেকদিন নিয়ম করে এই গ্রামের ভেতরে হাট বসে। হাজার হাজার মানুষজন সেই হাটে এসে নিজের পছন্দের জিনিস কিনে নিয়ে বাড়ি ফেরেন পরিবারের সদস্যদের জন্য। এই গ্রামের মধ্যে রয়েছে জগন্নাথের মন্দির। অনেকেই এই গ্রামকে চিনতে পারছেন আবার অনেকেই হয়তো এই গ্রামের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এই গ্রামের নাম সৃজনী শিল্প গ্রাম। বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে মেরেকেটে কয়েক কিলোমিটারের দূরত্ব। প্রত্যেকদিন এই গ্রাম ঘুরতে হাজার হাজার পর্যটকেরা ছুটে আসেন। আর সেই পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য এই গ্রামের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তারক্ষী।

পুরো জায়গাটি দেখতে গ্রামের মতন হলেও এটি কোনও গ্রাম নয়। এটি আসলে বঙ্গ শিল্প এবং সংস্কৃতির পীঠস্থান। প্রত্যেকদিন এই গ্রাম পরিদর্শনের জন্য পর্যটকদের সমাগম ঘটে। তবে এই গ্রাম ঘুরে দেখতে গেলে আপনাকে কিছু টাকা খরচ করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মাথাপিছু ৩০ টাকা। ছাত্র-ছাত্রী ও বাচ্চাদের জন্য মাত্র ১০ টাকা টিকিট কেটে এখানে প্রবেশ করতে হবে। আপনি যদি এখানে ব্যক্তিগত ফটোশ্যুট করতে চান তাহলে আপনাকে দিতে হবে মাত্র ৫০ টাকা। সকাল ৯ টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে এই গ্রাম। তবে সন্ধ্যা নামার পর এই গ্রামে আর কারোর প্রবেশ করার অনুমতি থাকে না। আস্ত ২৬ বিঘা জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই গ্রামে রাত্রি বাস করেন মাত্র দু’জন নিরাপত্তারক্ষী।

(Feed Source: news18.com)