
বর্ষা এলে গরম থেকে স্বস্তি মিললেও,বাড়তে থাকে মশার উপদ্রব। বৃষ্টির জল জমে থাকে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায়, সেখান থেকেই মশার বংশবিস্তার শুরু হয়। বাড়ির আশপাশের ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরনো টায়ার কিংবা ছোট কোনও পাত্রে জমে থাকা জল হয়ে উঠতে পারে মশার প্রজননস্থল। ফলে সন্ধ্যা নামলেই ঘরে মশার আনাগোনা বেড়ে যায়।
মশার উপদ্রব কমাতে প্রথমেই নজর দিতে হবে বাড়ির আশপাশে কোথাও জল জমে রয়েছে কি না। ফুলের টবের নীচের ট্রে, বালতি, ভাঙা পাত্র, ডাবের খোলা কিংবা যে কোনও পাত্রে বৃষ্টির জল জমলে তা নিয়মিত ফেলে দিতে হবে। বাড়ির নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে জল জমার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানেও নজর দিতে হবে। কারণ মশার বংশবিস্তার রুখতে জমা জল সরানোই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ঘরের দরজা-জানালা দিয়ে যাতে মশা না ঢোকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। জানালায় মশারি বা নেট ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দরজা-জানালা দীর্ঘক্ষণ খোলা না রাখাই ভাল। রাতে ঘুমোনোর সময় মশারি ব্যবহার করলে মশার কামড় থেকে বাঁচা যায়। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে। ক্যাটনিপ তেলও মশা তাড়াতে সাহায্য করে
বাড়িতে কিছু ভেষজ ও সুগন্ধি গাছ রাখলেও মশা দূরে থাকে। তুলসী, লেমনগ্রাস, পুদিনা, গাঁদা বা সিট্রোনেলা জাতীয় গাছ বারান্দা, জানালার ধারে কিংবা বাড়ির আশপাশে রাখুন, মশা আসবে না। এসব গাছের গন্ধ পোকামাকড় দূরে রাখে। অনেকেই মশা তাড়াতে ঘরের কোণে পিপারমেন্ট অয়েলযুক্ত সুগন্ধি মোম জ্বালান। এই এসেনশিয়াল অয়েল আপনি গায়েও মাখতে পারেন মশার কামড় থেকে বাঁচতে। সরাসরি পিপারমেন্ট অয়েল গায়ে লাগালে র্যাশ বেরোতে পারে। তাই নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে লাগান।
বাজারে প্রাপ্ত অধিকাংশ মশা তাড়ানোর স্প্রে’র মূল উপাদান ইউক্যালিপটাস তেল। আমেরিকার সিডিসি এটিকে মশার তাড়ানোর উপায় হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই এসেনশিয়াল অয়েল লাগালে অনেক ক্ষণ মশা দূরে থাকবে। বাড়ির ভিতরেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। বাথরুম, রান্নাঘর বা অন্য কোনও জায়গায় জল জমে থাকলে দ্রুত পরিষ্কার করুন। প্রয়োজন হলে অনুমোদিত মশা নিরোধক বা রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যে-কোনও রাসায়নিক মশা নিরোধক ব্যবহারের আগে প্যাকেটের নির্দেশিকা ভালভাবে পড়ে নিন। শিশু ও পোষ্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখুন।
বর্ষাকালে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও জল জমতে না দেওয়া, জানালা-দরজায় নেট ব্যবহার, রাতে মশারি টাঙানো এবং প্রয়োজনে ভেষজ গাছ রাখা—সব মিলিয়ে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পরিবারের কারও জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। গাঁদা, ল্যাভেন্ডার, রোজমেরি, ও পুদিনার মতো গাছ ঘরে রাখলে মশার আনাগোনা অনেকটাই কমবে।
(Feed Source: news18.com)
