
Independence Day 2026: অবশেষে কাটছে দীর্ঘদিনের উপেক্ষা। ‘গান্ধীবুড়ি’ মাতঙ্গিনী হাজরার জরাজীর্ণ বসতবাটি সংরক্ষণ ও হেরিটেজ স্বীকৃতির উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। গড়ে উঠবে ডিজিটাল মিউজিয়াম। মূল ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভবনটি পুনরুদ্ধার করা হবে।
তমলুক, সৈকত শী: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ‘গান্ধীবুড়ি’ মাতঙ্গিনী হাজরার নাম এক অনন্য অগ্নিশিখা। ১৯৪২-এর ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে যে বীরঙ্গনা রক্তরাঙা পতাকা হাতে ব্রিটিশ বন্দুকের সামনে সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর জীবন ও মেদিনীপুরের অগ্নিযুগের এক নীরব সাক্ষী ছিল তাঁর ঐতিহ্যবাহী বসতবাটি। কিন্তু সময়ের নির্মম কষাঘাতে সেই ঐতিহাসিক ভিটে আজ চরম জরাজীর্ণ। ধসে পড়া, শেওলা ধরা দেওয়াল আর ভেঙে পড়া চালের নিচে আড়ালেই চাপা পড়ে যাচ্ছিল এক মহান ইতিহাসের স্পন্দন। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যমণ্ডিত এই বাড়িখানি এতদিন নীরবে ধ্বংসের প্রহর গুনছে। তাই এবার উদ্যোগী হল জেলা পরিষদ এই বসতবাটি রক্ষণাবেক্ষণের।
মাটি ও বাঁশের এই সাধারণ কাঠামোটি কেবল একটি পুরনো বাড়ি নয়। এই বাড়ির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে মাতঙ্গিনী হাজরার জীবনসংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং স্বদেশপ্রেমের নানা না-বলা গল্প। স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রায় আট দশক অতিক্রান্ত হলেও ঐতিহাসিক এই স্থানটি হেরিটেজ বা পর্যটন মানচিত্রে নিজের প্রাপ্য মর্যাদা পায়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় ঢাকা পড়েছিল বীরাঙ্গনার পদধূলিধন্য এই ভিটে, যা ঐতিহ্যপ্রেমীদের হৃদয়ে নিরন্তর বেদনার সৃষ্টি করে এসেছে। কিন্তু এবার উদ্যোগী হল জেলা পরিষদ এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি জানান, ” ওই বসত বাটিটি হেরিটেজ কমিটির কাছে হেরিটেজ স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। তা সংরক্ষণের পর রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
অবশেষে সেই দীর্ঘ উপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ভোরের সূচনা হতে চলেছে। ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটিকে আবার নতুন জীবন দিতে জেলা পরিষদ গ্রহণ করেছে মাস্টারপ্ল্যান। জরাজীর্ণ ভবনটির মূল প্রাচীন স্থাপত্য অক্ষুণ্ণ রেখেই বৈজ্ঞানিক পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এটিকে রূপ দেওয়া হচ্ছে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র ও স্মৃতি প্রদর্শশালায়। এখানে ডিজিটাল মিউজিয়াম ও দুর্লভ আলোকচিত্রের সমন্বয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে মাতঙ্গিনী হাজরার সম্পূর্ণ জীবনালেখ্য, যাতে দর্শনার্থীরা সেই ঐতিহাসিক সময়ের আবহ জীবন্তভাবে অনুভব করতে পারেন।
(Feed Source: news18.com)
