)
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা ২০২৬-এর দিনক্ষণ ও সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়েছে। মহালয়া দিয়ে দেবীবন্দনার সূচনা থেকে শুরু করে মহা ষষ্ঠী, সপ্তমী, মহা অষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিটি দিনের পবিত্র আচার-অনুষ্ঠান ও তিথির বিস্তারিত সময়সূচি একনজরে জেনে নিন। আনন্দ ও উৎসবমুখর এই মহোৎসবের দিনপঞ্জি এখন ভক্তদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে উৎসাহ-উত্তেজনা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। দুর্গাপূজা মানেই আনন্দ, উল্লাস আর নস্ট্যালজিয়া। ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের দিনক্ষণ ও সময়সূচি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। মহালয়া থেকে শুরু করে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী— পুজোর দিনগুলি কবে এবং কখন পড়ছে, একনজরে দেখে নিন তার সম্পূর্ণ তালিকা।
দুর্গাপূজা মূলত পাঁচ দিনের প্রধান উৎসব হলেও এর প্রস্তুতি এবং আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মহালয়া থেকেই। ২০২৬ সালের পুজোর দিনগুলিতে যে সমস্ত প্রধান আচার ও ritualগুলি পালিত হয়, তা নিচে আলোচনা করা হল:
মহালয়া- মহালয়ার মাধ্যমেই পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এই দিন ভোরে তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয় এবং অঞ্জলি নিবেদন করা হয়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী অর্থাৎ “যা চণ্ডী” শোনার জন্য ভোরে রেডিও বা টেলিভিশনের সামনে বসে পড়ার নস্ট্যালজিয়া বাঙালির চিরন্তন। এই দিন থেকেই আকাশবাতাসে মা দুর্গার আগমনের বার্তা শোনা যায়।
মহাষষ্ঠী (বোধন ও আমন্ত্রণ)
ষষ্ঠী পুজোর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শারদোৎসবের সূচনা ঘটে। এই দিন দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হয়। বেল গাছের নিচে দেবীর কল্পারম্ভ এবং দেবীর মুখ উন্মোচনের মাধ্যমে মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত করা হয়। ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
মহাসপ্তমী (নবপত্রিকা প্রবেশ ও পূজা)
সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা বা যাকে জনপ্রিয়ভাবে ‘কলাবউ’ বলা হয়, তাকে স্নান করিয়ে মণ্ডপে স্থাপন করা হয়। এরপর শুরু হয় সপ্তমী বিহিত পূজা। নবপত্রিকা স্নানের দৃশ্য দেখার জন্য নদীঘাট বা জলাশয়ে ভক্তদের ভিড় জমে। নতুন পোশাকে সেজে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে শুরু হয় প্রতিমা দর্শন।
মহাঅষ্টমী (সন্ধিপূজা ও অঞ্জলি)
দুর্গাপূজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় দিন হলো মহাঅষ্টমী। সকালে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার জন্য মণ্ডপে উপচে ভিড় জমে। এছাড়া এই দিন কুমারী পুজার বিশেষ আয়োজন করা হয়। অষ্টমী ও নবমীর ঠিক সন্ধিক্ষণে (শেষ ২৪ মিনিট ও প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে ৪৮ মিনিট) অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। এই সময়ে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো হয় এবং দেবীকে বিশেষ নৈবেদ্য অর্পণ করা হয়, যা পুজোর অন্যতম পবিত্র মুহূর্ত।
মহানবমী (হোম ও যজ্ঞ)
নবমীর দিনে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি ও হোম-যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। ভক্তরা তাঁদের মনের নানা কামনায় যজ্ঞে আহুতি দেন। সন্ধের সময় ধুনুচি নাচ এবং মহা আরতির মাধ্যমে দেবীকে বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়। নবমী রাতের আলো ঝলমলে মণ্ডপ দেখার উন্মাদনা থাকে তুঙ্গে।
বিজয়া দশমী (সিঁদুর খেলা ও বিসর্জন)
মায়ের মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা। দশমীর সকালে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে ‘সিঁদুর খেলায়’ মেতে ওঠেন। এরপর শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় এবং ঘরে ঘরে শুরু হয় বিজয়ার কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ করানোর পর্ব।
কেন বিশেষ এই দুর্গোৎসব?
বাঙালির কাছে দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এক মিলনমেলা। নতুন জামাকাপড়, চেনা-অচেনা মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া, প্যান্ডেল হপিং এবং পুজোর চারদিনের নস্ট্যালজিয়া মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ২০২৬ সালের এই মহোৎসবের দিনগুলোতেও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা একই আনন্দে মেতে উঠতে প্রস্তুত হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
