
কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর কেন্দ্র এবং এফএসএসএআই-কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য দু সপ্তাহ সময় দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷
আপনারা না পারলে আমরা করে দেখাব৷ প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যের উপরে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কবার্তা লেখা বাধ্যতামূলক করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চরমবার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট৷ প্যাকেটজাত যে থাবারগুলিতে চড়া মাত্রায় চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, সেই ধরনের খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেটের উপরে সতর্কবার্তা হিসেবে সেই তথ্য উল্লেখ করতে হবে বলে ফের মনে করিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷
কেন এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কড়া মনোভাব দেখাচ্ছে না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত৷ একই সঙ্গে আদালত প্রশ্ন তুলেছে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপে পড়েই বিষয়টি নিয়ে গা ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে কি না৷
কেন্দ্রীয় সরকার এবং এফএসএসএআই-এর উদ্দেশে শীর্ষ আদালত বলে, ‘এই বিষয়টির সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িয়ে আছে৷ ফলে কর্পোরেটদের চাপে এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়৷’
একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন এ দিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে পি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন এই মন্তব্য করেন৷ মামলাকারী ব্যক্তি শীর্ষ আদালতে দাবি করেন, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের উপরে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কবার্তা দেওয়ার বিরোধিতা করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি৷ যার ফলেই বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছে এফএসএসএআই৷
মামলাকারীর আইনজীবী আরও দাবি করেন, গত ৭ মার্চ এফএসএসএআই-এর বৈঠকে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয় সেগুলি শীর্ষ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশগুলির সম্পূর্ণ পরিপন্থী৷
ফএসএসএআই-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট শিল্প মহলের আপত্তির কথা উল্লেখ করে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়, সতর্কবার্তা না দিয়ে খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে প্রতিদিন কতটা পরিমাণ অতিরিক্ত চিনি, নুন অথবা স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করা যায়, সেই পরিমাণ পরামর্শ আকারে উল্লেখ করা হোক৷
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ব্রিজেন্দর চাহারের উদ্দেশে শীর্ষ আদালত প্রশ্ন করে, এ বিষয়ে কেন পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রীয় সরকার গড়িমসি করছে? আদালত যে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে, সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন দুই বিচারপতি৷ শীর্ষ আদালত আরও জানায়, জনস্বার্থেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল পাল্টা যুক্তি দেন, ‘এই নির্দেশ কার্যকর করতে গেলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে৷ কারণ সাধারণ ভারতীয় খাবারই পরম্পরাগত ভাবে চিনি এবং নুনের মাত্রা বেশি থাকে৷ ‘
এই যুক্তি শুনে দুই বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন, ‘আপনারা কি চান না দেশের সাধারণ মানুষ সুস্থ থাকুন? বিশেষত বাড়ন্ত বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের প্রশ্ন যেখানে জড়িয়ে রয়েছে!’
ক্ষুব্ধ দুই বিচারপতি কেন্দ্র এবং এফএসএসএআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা এতদিন কী করেছেন? আপনাদের উপরে চাপ আছে আমরা জানি৷ আপনারা কি নিজে থেকে কিছু করবেন না কি আমরাই নির্দেশ দেব?’
(Feed Source: news18.com)
