)
School Thik Karo CJP campaign: স্বাধীনতার ৮০ বছর পর দেশের গ্রামের স্কুলগুলোর বেহাল দশা দূর করতে ১৫ আগস্ট ‘স্কুল ঠিক করো’ দেশব্যাপী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দিয়েছে CJP। এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে বেহাল রাস্তার কারণে চরম দুর্দশার প্রতিবাদে জেলা কালেক্টরেট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল স্কুলপড়ুয়ারা। গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নে এই আন্দোলন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের স্বাধীনতার আশি বছর পূর্ণ হতে চলেছে, অথচ আজও গ্রামের স্কুলগুলিতে মৌলিক পরিকাঠামোর অভাব দূর হয়নি। এই কঠিন সত্যকে সামনে রেখেই এবার দেশব্যাপী এক বড়সড় সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ১৫ অগাস্ট দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে গ্রামের সরকারি স্কুলগুলির অবস্থা ফেরাতে শুরু হতে চলেছে বিশেষ ‘স্কুল ঠিক করো’ ক্যাম্পেইন।
এক্স-এ এই নতুন ক্যাম্পেইনের ঘোষণা করে সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের গ্রামীণ শিশুদের সঙ্গে চূড়ান্ত অন্যায় করা হয়েছে। দীপকে তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও গ্রামের শিশুদের স্কুলের মৌলিক সুবিধার জন্য হাত পাততে হচ্ছে। দেশ হিসেবে আমরা গ্রামীণ শিশুদের ব্যর্থ করেছি সবচেয়ে খারাপ উপায়ে।” এই ক্যাম্পেইনের সূচনা হবে মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলের হিঙ্গোলি জেলা থেকে—যেটি অভিজিৎ দীপকের নিজের গ্রাম। সেখানে গিয়ে তিনি স্থানীয় সরপঞ্চ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং সরকারি স্কুলগুলির মানোন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন।
দীপকের মতে, এটি কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং অভিভাবকদেরও শিশুদের জন্য উন্নত পড়াশোনা ও পরিকাঠামো নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব’ পালন করতে হবে। এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ এলাকার ছোট মেয়েদের স্কুল যাতায়াত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কতটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বড় শহরের শিক্ষার্থীরা যে সুযোগ-সুবিধা অনায়াসে পায়, গ্রামের শিশুরা তা থেকে বঞ্চিত কেন—এই প্রশ্ন তুলে তিনি শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি জানান।
উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে বেহাল রাস্তা নিয়ে স্কুলছাত্রদের নজিরবিহীন বিক্ষোভ
সিজেপি-র এই জাতীয় ক্যাম্পেইন ঘোষণার ঠিক একদিন পরেই উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবাদের চিত্র সামনে আসে, যা গ্রামীণ পরিকাঠামোর বেহাল দশাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। যমুনা বেল্টের চন্দুপুরা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ৩ হাজার মানুষ যাতায়াতের জন্য প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রধান রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টির কারণে সেই রাস্তাটি সম্পূর্ণ কাদা ও জলে ডুবে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। রাস্তার এই ভয়ঙ্কর অবস্থার কারণে একদিকে যেমন ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তেমনই এলাকার কোনও অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগের প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে এলাকার স্কুলপড়ুয়ারা। মঙ্গলবার সকালে হাজার হাজার শিশু-কিশোর প্রতিবাদ মিছিল করে জেলা কালেক্টরেট চত্বরে এসে পৌঁছায়।
বিক্ষোভকারীদের আটকাতে এসডিএম সদর অভিষেক কুমার এবং সিও যশপাল সিংয়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আধিকারিকরা শিশুদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা রাস্তা ছাড়তে অস্বীকার করে। উল্টে তারা কালেক্টরেটের মূল গেট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখায়, যার ফলে ভেতরের সরকারি কর্মী ও আধিকারিকরা আটকে পড়েন।
ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে CJP-র বিস্তার
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি শক্তিশালী প্রেশার গ্রুপে পরিণত হয়েছে। এর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সংকটময় ইস্যুকে সামনে রেখে দিল্লির যন্তর মন্তরে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল CJP। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র ও অভিভাবকরা সেই আন্দোলনে যোগ দেন। বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকও এই আন্দোলনে সংহতি জানান।
এই ধারাবাহিক ছাত্র আন্দোলনের জেরে একসময় তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছিল। গত ২৫ জুলাই আন্দোলন সমাপ্ত হওয়ার পর মহারাষ্ট্রে একটি দুই দিনব্যাপী কৌশলগত বৈঠক করে সিজিপি। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে এই যুব আন্দোলন সর্বস্তরে চালিয়ে যাওয়া হবে এবং সোনাম ওয়াংচুক এই সংগঠনের অন্যতম পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত থাকবেন।
গত সপ্তাহেই সাধারণ মানুষের আসল সমস্যা ও উদ্বেগের কথা জানতে ‘কী বলতি পাবলিক’ নামে একটি নতুন দেশব্যাপী জনমত সংগ্রহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন দীপক। সেই আউটরিচ বা জনসংযোগ কর্মসূচির একেবারে প্রথম এবং প্রধান ফোকাস রাখা হয়েছে ‘শিক্ষা’ ব্যবস্থার ওপর। গ্রামীণ শিক্ষার বেহাল দশা এবং পরিকাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে CJP-র এই নতুন ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
(Feed Source: zeenews.com)
