)
Rani Mukerji: সিনেমায় সফল ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে IFFM-এ বিশেষ সম্মান পেলেন রানি মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে আবেগঘন হয়ে তিনি জানান, পুরস্কার বা খ্যাতি নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে পাওয়া দর্শকের দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসাই তাঁর জীবনের আসল সাফল্য।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় সিনেমায় সফলভাবে তিনটি দশক পার করার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার বিশেষভাবে প্রশংসিত ও সম্মানিত হলেন বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়। অস্ট্রেলিয়ার ‘ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ মেলবোর্ন’ (IFFM)-এ তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের উৎকর্ষ এবং বিশ্বজুড়ে দর্শকের সঙ্গে গড়ে ওঠা দীর্ঘস্থায়ী সুসম্পর্কের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। এই সম্মান তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে এক নতুন মাইলফলক যোগ করল।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ৩০ বছর কাটিয়ে দেওয়া এবং আজও দর্শকের মনে সমানভাবে রাজত্ব করা—সব মিলিয়ে এই দীর্ঘ সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনুষ্ঠানে যথেষ্ট আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রানি মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে জীবনের ওঠানামা ও অভিজ্ঞতার নানা দিক। ৩০ বছর নিয়ে বলতে গিয়ে রানি জানান, যখন তিনি এই দুটি শব্দ সশব্দে উচ্চারণ করেন, তখন তাঁর কাছে এটা শুধু সংখ্যা বলে মনে হয় না। এটি যেন এক জীবনের পুঞ্জীভূত স্মৃতি, শত শত স্বপ্ন, বহু মুহূর্তের জয়, বহু মানুষের সান্নিধ্য, ব্যর্থতার শিক্ষা এবং সর্বোপরি অফুরন্ত ভালোবাসার এক সুদীর্ঘ পথচলা। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো থেকে আজকের এই অবস্থান পর্যন্ত পৌঁছে আসার অভিজ্ঞতা যে সবসময় সহজ ছিল না, সে ইঙ্গিতও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে দর্শকের এই ভালোবাসা অর্জন করাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
রানির দৃষ্টিতে ‘সাফল্যের’ প্রকৃত অর্থ
আজকের যুগে সাফল্য বলতে সাধারণত বক্স অফিসের পরিসংখ্যান বা তারকাদ্যুতিকেই বোঝানো হয়। তবে রানির কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ আলাদা এবং অনেক বেশি গভীর। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, পেশাগত বড় বড় অর্জন বা কেবল ট্রফি জেতাই তাঁর কাছে আসল সাফল্য নয়। তাঁর কাছে প্রকৃত সাফল্য হলো সেই ভালোবাসা, যা বছরের পর বছর ধরে একজন শিল্পীর সঙ্গে টিকে থাকে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেবল আরও গভীর ও প্রশস্ত হয়। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, জীবনে তিনি আর যাই হোক না কেন, ঠিক এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই সবসময় সচেষ্ট থেকেছেন।
ভারত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রানির চরিত্রগুলির প্রভাব
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে দাঁড়িয়ে রানি তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিকের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, যখন তিনি একজন তরুণী হিসেবে প্রথম হিন্দি সিনেমা জগতে পা রেখেছিলেন, তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি একদিন দেশের ভৌগোলিক গণ্ডি পেরিয়ে সাগর পারের মানুষকেও এতটা প্রভাবিত করবে। অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি সুন্দর দেশের দর্শকরা তাঁকে যে পরিমাণ উষ্ণতা, সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে ভালো সিনেমা এবং অভিনয়ের কোনও সীমানা হয় না, তা যেকোনো দেশের মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে যেতে পারে।
দর্শকদের ভূমিকা এবং একজন অভিনেতার পূর্ণতা
অভিনয় এবং দর্শকের মানসিক সংযোগের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রানি অত্যন্ত সুন্দর একটি বার্তা দেন। তাঁর মতে, একজন অভিনেতা যতই নিখুঁতভাবে ক্যামেরার সামনে নিজের চরিত্র ফুটিয়ে তুলুন না কেন, কাজের পূর্ণতা সেখানে হয় না। “আমরা ক্যামেরার সামনে অভিনয় করি মাত্র, কিন্তু আসল গল্প বা জাদু তখনই শুরু হয় যখন সেই অভিনয় সরাসরি কোনো দর্শকের হৃদয়ে গিয়ে পৌঁছায়।” দর্শকদের এই ভালোবাসাই একজন অভিনেতাকে বাঁচিয়ে রাখে এবং তাঁর কাজকে অমর করে তোলে।
এক নজরে রানির অবদান
IFFM-এর এই বিশেষ সাইটেশন রানি মুখোপাধ্যায়ের তিন দশকের এক অসাধারণ কেরিয়ারকে যথাযথ সম্মান জানিয়েছে। তাঁর অভিনীত বহু স্মরণীয় চলচ্চিত্র ও চরিত্রগুলি আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে নতুন দর্শকের মন জয় করে চলেছে। সামাজিক বার্তা দেওয়া ছবি হোক বা ড্রামা কিংবা থ্রিলার—রানি মুখোপাধ্যায় সবসময় তাঁর বহুমুখী অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই আন্তর্জাতিক সম্মান প্রমাণ করে যে ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
(Feed Source: zeenews.com)
