
PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর পাখির চোখ অলিম্পিক্স। ২০৩৬ সালে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ দারুণ কিছু করতে মরিয়া ভারত। দেশের পরবর্তী প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করতে ও তাদের গড়ে তুলতে মোদী দেশজুড়ে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি শুরুর কথাও ঘোষণা করেছেন ১৫ অগাস্ট।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জোর দিয়ে বলেছেন খেলাধুলোর কথা। নমোর অনেক উচুঁতেই নজর। তিনি বলছেন, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্সে প্রতিটি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে ভারতকে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি, অলিম্পিক্স জয়ের লক্ষ্য পূরণের পথে ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় শিশুদের খুঁজে বের করা এবং তাদের উন্নত মানের প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তিনি দেশ জুড়ে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি চালুর কথাও ঘোষণা করেছেন এদিন। মোদী বলেন, ‘খেলাধুলোর দুনিয়ায় ভারত নিজের বিশেষ স্থান তৈরি করে নিচ্ছে। আমরা প্রায়শই আমাদের জাতীয় সংগীত শুনতে পাই। আমাদের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উড্ডীন হতে দেখি। TOPS কর্মসূচি দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। খেলো ইন্ডিয়া গেমস, ইউনিভার্সিটি গেমস, বিচ গেমস, শীতকালীন গেমস কিংবা ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, স্পোর্টস মেডিসিন ও ক্রীড়া পুষ্টি, সব ক্ষেত্রেই ভারত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে’। মোদী আরও বলেন, ‘ভারতের ক্রীড়া নৈপুণ্য ক্রমশ উন্নত হচ্ছে এবং ২০৩৬ সালে অলিম্পিক্স আয়োজক হওয়ার দৌড়ে আমরা অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। ২০৩০ সালে আমরা কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করছি। অলিম্পিকে প্রায় ৪০টি ক্রীড়া বিভাগ ও ৩৫০টি ইভেন্ট থাকে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হল, এর মধ্যে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ইভেন্টে আমরা প্রতিযোগিতাই করতে পারি না, কারণ আমরা সেগুলির জন্য যোগ্যতাই অর্জন করতে পারি না।’
মোদীর মেগা ভিশন
মোদী এদিব বলেন, ভারতের ক্রীড়াঙ্গনের পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন এবং ২০৩৬ সালের গেমসে বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুত রাখা নিশ্চিত করতে হবে। কম বয়সে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করা ও তাদের গড়ে তোলার যে বৃহত্তর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি তারই অংশ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ২০৩৬ সালে আমরা অন্তত তিন-চতুর্থাংশ ইভেন্টে অংশগ্রহণ করব। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করতে আমরা ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি শুরু করছি। বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য তারা বিশেষ প্রশিক্ষণ পাবে।’ গুজরাটের অমদাবাদে ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই এই ঘোষণা এসেছে। ২০২৬ সালের গ্লাসগো গেমসের সমাপ্তী অনুষ্ঠানে আয়োজক হিসেবে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারত এই প্রতিযোগিতার ১০০ বছরের আসর আয়োজন করতে যাচ্ছে। ২০১০ সালে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত আসরের পর অমদাবাদই হবে ভারতের দ্বিতীয় শহর, যেখানে কমনওয়েলথ গেমস হতে চলেছে। ২০৩০ সালের এই আয়োজনে প্রথাগত ভারতীয় খেলার পাশাপাশি প্রধান প্রধান ক্রীড়া ইভেন্টগুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে। যার মূল লক্ষ্য হল ভারতের পদক জয়ের সম্ভাবনাকে আরও জোরাল করা। অমদাবাদ গেমস মূলত নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করেই আয়োজিত হবে। ভারতের জন্য কমনওয়েলথ গেমস ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন, উদীয়মান প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্সের আগে ক্রীড়াবিদদের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন গড়ে তোলার আরও এক সুযোগ করে দেবে। অলিম্পিক্সের প্রতি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে মোদীর আহ্বান ভারতের দীর্ঘমেয়াদী ক্রীড়া পরিকল্পনায় নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন মূল মনোযোগ হচ্ছে কম বয়সে প্রতিভা শনাক্ত করা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উপর।
(Feed Source: zeenews.com)
