)
Extreme Heatwave: ১০০ বছরেও মানুষ এমন তাপপ্রবাহ দেখেনি। অবিশ্বাস্য! এই ছবি অবশ্য ভারতের নয়। এই দাবদাহ ইউরোপের। ইউরোপের চলতি তীব্র তাপপ্রবাহের কারণ কী? বলা হচ্ছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা তীব্র উষ্ণ বায়ু। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী উচ্চচাপের ‘ওমেগা ব্লক’।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত ১০০ বছরেও মানুষ এমন তাপপ্রবাহ দেখেননি। অবিশ্বাস্য এক পরিস্থিতি! ভয়ংকর রকমের তাপমাত্রার কারণে নানা রোগ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদ থেকে রাজনীতিবিদ– সবাই এ চরম তাপমাত্রার পরিণতি ও মোকাবিলার উপায় নিয়ে কথা বলছেন। এই ছবি অবশ্য ভারতের নয়। এই দাবদাহ-ছবি ইউরোপের। ইউরোপের চলতি তীব্র তাপপ্রবাহের কারণ উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা তীব্র উষ্ণ বায়ু। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী উচ্চচাপের ‘ওমেগা ব্লক’।
আগুনের বিশাল বলয়
এটি বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে উষ্ণতা দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখছে। উষ্ণ ভূমধ্যসাগর ও মাটির অতিরিক্ত শুষ্কতাও তাপকে আরও তীব্র করছে। ফলে পশ্চিম ইউরোপে এই তাপপ্রবাহ প্রায় তিন সপ্তাহ এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে প্রায় দুই সপ্তাহ স্থায়ী হয়। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে স্পেন ও পর্তুগাল হয়ে ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, যুক্তরাজ্য এবং মধ্য ইউরোপ পর্যন্ত একটি বিশাল উচ্চচাপ বলয় প্রভাব বিস্তার করে।
১৫ কোটির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, হাজার হাজার মৃত্যু
জার্মানির অনেক অঞ্চলে গতকাল (১৫ আগস্ট) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠছে। গত ২৮ জুন জার্মানির বিস্তীর্ণ এলাকায় ৩৯ থেকে ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া জার্মানির পশ্চিমাঞ্চল আইফেলে হুর্টগেনভাল্ডে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এ বছরের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপে ১৫ কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো ও শ্রম উৎপাদনশীলতার উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এই সংস্থা তাপপ্রবাহের কারণে কুড়ি হাজারের বেশি লোক মারা যাওয়ার আশঙ্কা করেছে। জার্মানির রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত জার্মানিতে প্রচণ্ড গরমের কারণে সাড়ে ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়ার পরিবর্তন
তবে জার্মানির বিস্তীর্ণ এলাকায় আবারও প্রচণ্ড গরমের পর আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে জার্মানির আবহাওয়া দফতর। তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত শীতল হবে এবং তাপমাত্রা তুলনামূলক ভাবে কম থাকবে। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২২ থেকে ২৯ ডিগ্রি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে জার্মানির অনেক অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, শুক্রবারের মতো হেলিকপ্টারগুলিও বিপুল পরিমাণ জল আগুনের উপর ফেলবে। জানা গিয়েছে, বাতাসের গতি কমেছে এবং আগুন আর নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েনি। তবে প্রশাসন সতর্ক করে দিয়েছে যে, উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করেছে। ফলে পরিস্থিতির উপর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে দাবানল আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে– এ বাস্তবতা মেনে নিতে হবে বলেই সব মহলের মত। তবে, সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করছেন, সকলকেই সতর্ক থাকতে হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
