)
টলিউডে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া!দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন। ‘দামু’ থেকে শুরু করে একাধিক কালজয়ী ছবির স্রষ্টার চিরবিদায়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে একটি যুগের অবসান।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টলিউড তথা বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নেমে এল এক গভীর ও অপূরণীয় শোকের ছায়া। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক রাজা সেন। তাঁর এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে সত্যিই একটি গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই পরিচালকের চিরবিদায়ের খবরে স্তব্ধ টালিগঞ্জ।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ পরিচালক। শুক্রবার সকালে আচমকাই তিনি তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝে পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তি করান। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতে রাজা সেন ছিলেন এক অন্যতম উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী পরিচালক। তাঁর সৃজনশীল পরিচালনা, ভিন্নধর্মী কাহিনি নির্বাচন এবং বাংলা সংস্কৃতিকে নিখুঁতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা তাঁকে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। ‘দামু’, ‘আত্মীয়স্বজন’-এর মতো একাধিক স্মরণীয় সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি বাংলা ছবির ইতিহাসে নিজের স্থান স্থায়ী করে নিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, তাঁর এই শারীরিক জটিলতার মূল সূত্রপাত ঘটেছিল ‘মায়া মৃদঙ্গ’ ছবির শুটিং চলার সময়ে। শুটিংয়ের সেটে আচমকাই পড়ে যান তিনি। পড়ে যাওয়ার ফলে তাঁর কোমরে মারাত্মক চোট লাগে। তবে সেই সময় কাজের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে এই আঘাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু প্রাথমিক অবহেলাই পরবর্তীকালে তাঁর স্বাস্থ্যের জন্য বড় মাশুল হয়ে দাঁড়ায়।
চোটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর হাঁটাচলায় গুরুতর সমস্যা হচ্ছিল। প্রায় এক দশক আগের পুরনো সেই শারীরিক ব্যাধি ও চোট চলতি বছরের গোড়ার দিকেই বড় আকার ধারণ করে তাঁর শরীরে থাবা বসায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এ বছরের শুরুর দিকেও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল এবং সেই সময় তাঁর একটি জটিল অস্ত্রোপচারও সম্পন্ন হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রাজা সেনের অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর সৃষ্টি, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা আগামী দিনের স্বাধীন ও শিল্পসম্মত সিনেমা নির্মাতাদের পথ দেখাবে। এক নিঃশব্দ পথিকের এই চিরবিদায় বাংলা সিনেমা জগতের জন্য এক চিরন্তন শূন্যতা তৈরি করে গেল।
(Feed Source: zeenews.com)
