
BJP New Team: বিজেপির জাতীয় ডিজিটাল কৌশল তৈরিতে এই অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লাগে, তা অবশ্য আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। তবে ছত্তীসগঢ়ে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা এবং সরকারি ও কর্পোরেট স্তরে কাজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই দীপক ম্হাসকেকে জাতীয় IT Cell-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য আলাদা করে তুলেছে।
নয়াদিল্লি: দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি৷ ছাব্বিশে নিতিন নবীনের নতুন সাংগঠনিক ‘টিম’-এ সেই অমিত মালব্যের বদলে এবার নিয়ে আসা হল একটা নতুন মুখ৷ নাম দীপক ম্হাসকে৷ জাতীয় রাজনীতিতে প্রায় অপরিচিত একটা নাম৷ হঠাৎ করেই বিজেপির গুরুদায়িত্বে৷ বিশেষত, GenZ-র সাম্প্রতিক তম বিক্ষোভই আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব৷ কী ভাবে সাধারণ একটা ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট জন্ম দিতে পারে একটা আস্ত রাজনৈতিক দলকে, CJP-র দৌলতে তা আমাদের দেখা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই৷ এমতাবস্থায়, নিঃসন্দেহেই বলা যায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বাড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ার৷ এই পরিস্থিতিতে খুব স্বাভাবিক ভাবেই এক বিরাট দায়িত্ব পেলেন এই দীপক ম্হাসকে৷
বিজেপির নতুন IT Cell প্রধান হিসেবে দীপক ম্হাসকের (Deepak Mhaskey) নিয়োগ তাঁকে ছত্তীসগঢ়ের তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এক রাজনৈতিক সংগঠকের ভূমিকা থেকে দলের জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে এসেথে। বিজেপির ডিজিটাল সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব এবার তাঁর কাঁধে।
তবে রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে দীপক ম্হাসকের পেশাগত পরিচয় বেশ বৈচিত্র্যময়। তাঁর কর্মজীবনে যেমন কেমিস্ট্রির অধ্যাপনা রয়েছে, তেমনই রয়েছে কৃষি ও উদ্যানপালনের কাজ, নির্বাচনী তথ্য বিশ্লেষণ, সরকারি সংস্থার বোর্ডে দায়িত্ব এবং ছত্তীসগঢ় সরকারের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ছত্তীসগঢ়ে বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
কেমিস্ট্রির অধ্যাপক থেকে রাজনৈতিক সংগঠক
১৯৬৮ সালে জন্ম দীপক ম্হাসকের কেমিস্ট্রিতে এমএসসি ডিগ্রি রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সিমেন্ট প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের একটি সার্টিফিকেট কোর্সও করেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (EIL)-এ জমা দেওয়া তাঁর প্রোফাইল অনুযায়ী, কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কলেজে কেমিস্ট্রির অধ্যাপক ছিলেন। পরে কৃষিক্ষেত্রে কাজ শুরু করেন। উদ্যানপালন এবং জৈব চাষের ক্ষেত্রে তাঁর তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিছুদিন রাস্তা নির্মাণের কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মজীবনে রাজনৈতিক সংগঠন এবং তথ্য বিশ্লেষণের গুরুত্ব বাড়ে। EIL-এর প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী তথ্য এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর তৈরি রিপোর্ট বিভিন্ন বেসরকারি ও সরকারি সংস্থা ব্যবহার করেছে বলেও ওই প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে।
২০০৯ সাল থেকেই বিজেপির IT Cell-এর সঙ্গে যোগ
দীপক ম্হাসকের LinkedIn প্রোফাইল অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকেই তিনি বিজেপির ছত্তীসগঢ় IT Cell-এর সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তাঁকে ছত্তীসগঢ় বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ জাতীয় স্তরে দায়িত্ব পাওয়ার আগে দীর্ঘদিন ধরে ছত্তীসগঢ়ের রাজ্য রাজনীতি এবং বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করেছেন তিনি। এবার সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে জাতীয় স্তরের দায়িত্বে নিয়ে এল।
সরকারি সংস্থার বোর্ডেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
দীপক ম্হাসকের কর্মজীবনে কর্পোরেট ও সরকারি সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে তাঁকে Engineers India Limited (EIL)-এর নন-অফিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। EIL পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীন একটি সরকারি সংস্থা, যা ইঞ্জিনিয়ারিং পরামর্শ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিওরমেন্ট ও কনস্ট্রাকশন সংক্রান্ত কাজ করে।
২০২৫ সালের মার্চে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় ওই পদে পুনর্নিয়োগ করা হয়। সংস্থার নিয়ন্ত্রক নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে EIL-এর বোর্ডে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে।
বোর্ডে থাকার সময় অডিট কমিটি, CSR কমিটি, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির মতো বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
EIL-এর প্রোফাইলে তাঁর বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে যুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, স্বাস্থ্য শিবির, গ্রামীণ গ্রন্থাগার এবং গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ।
ছত্তীসগঢ় সরকারের সঙ্গেও যুক্ত
দীপক ম্হাসকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি ছত্তীসগঢ় মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান। এটি রাজ্য সরকারের একটি সংস্থা, যা চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত।
সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডেও তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ফলে দীপক ম্হাসকের অভিজ্ঞতার পরিধি বেশ বিস্তৃত—একদিকে বিজেপির সাংগঠনিক কাজ, অন্যদিকে সরকারি সংস্থা এবং কর্পোরেট বোর্ডে দায়িত্ব। এর পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই বিজেপির জাতীয় IT Cell-এর দায়িত্ব সামলাতে হবে তাঁকে।
নির্বাচনী তথ্য বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতাই বড় সম্পদ?
দীপক ম্হাসকের পেশাগত প্রোফাইলে যে বিষয়টি তাঁর নতুন দায়িত্বের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে, তা হল নির্বাচনী তথ্য নিয়ে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা।
EIL-এর প্রোফাইলে জাতীয় স্তরে নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য নিয়ে তাঁর কাজের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
(Feed Source: news18.com)
