
Darchini Buying Tips: বাজারে বয়ামে ভর্তি খয়েরি ছাল দেখেই ভাবেন, বুঝি দারচিনি। কিন্তু জানেন কি, সব বাদামি রঙের ছালই আসল দারচিনি নয়। না বুঝেই আমরা দারচিনির বদলে ক্যাসিয়া কিনে ফেলি। এতে শুধু খাবারের স্বাদই বদলে যায় না, ক্যাসিয়ায় থাকা বেশি পরিমাণ কুমারিন লিভারের ক্ষতি করে। কীভাবে চিনবেন আসল দারচিনি?
বাঙালি হেঁশেলে গরম মশলা মাস্ট! আর এই গরম মশলার মধ্যে অন্যতম হল দারচিনি। শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। কিন্তু দোকানে সাজানো গাঢ় বাদামি রঙের প্রতিটি ছালই যে আসল দারচিনি, তা কিন্তু নয়। অনেক সময়ই দারুচিনির নামে ক্যাসিয়া বিক্রি করা হয়। দুটোই দেখতে অনেকটা একই রকম হওয়ায় সহজে পার্থক্য বোঝা যায় না। যদি আসল দারচিনি কিনতে চান, তাহলে গোটা দারুচিনি কেনাই ভালো। কারণ গুঁড়ো দারুচিনির ক্ষেত্রে ভেজাল বা অন্য কোনও ছাল মেশানো হয়েছে কি না, তা বোঝা কঠিন।

আসল দারচিনির পাতলা পাতলা স্তর থাকে। ভালো করে দেখলে বোঝা যায়, দারচিনির ছালে একের পর এক অনেক সূক্ষ্ম স্তর জড়িয়ে রয়েছে। এর ছাল সাধারণত পাতলা হয়। অন্যদিকে, ক্যাসিয়ার ছাল তুলনামূলক মোটা ও শক্ত হয়। তাই দোকান থেকে গোটা দারুচিনি কিনলে সেটি হাতে নিয়ে ভালো করে দেখে নিন। ছাল যদি খুব মোটা ও ভারী মনে হয়, তাহলে সেটি হয়তো দারুচিনি নয়, ক্যাসিয়া।
ক্যাসিয়ার ছাল মোটা, খসখসে এবং শক্ত হয়। এটি হাত দিয়ে ভাঙাও শক্ত। অন্যদিকে, আসল দারুচিনি পাতলা ও হালকা হয়। তাই বাজারে শুধু ছাল বাদামি রঙের হলেই ভাববেন না সেটা দারচিনি, ভালো করে ছালের পুরুত্ব ও স্তরগুলো দেখে নিন।
দারচিনি যদি আগে থেকেই গুঁড়ো করা থাকে, তাহলে আসল দারচিনি ও অন্য কোনও ছালের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায় না। তাই বাড়ির জন্য গোটা মশলা কেনাই বুদ্ধিমানের। প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি বাড়িতেই গুঁড়ো করে নেবেন। একান্তই প্যাকেটজাত দারচিনি কিনতে হলে লেবেল, উপাদানের তালিকা এবং প্যাকেটের তথ্য ভালো করে পড়ে নিন।
দারচিনির গন্ধ থেকেও আসল-নকল বোঝা যায়। আসল দারচিনির গন্ধ খুব তীব্র হয় না। বদলে মিষ্টি, উষ্ণ এবং প্রাকৃতিক মনে হয়। চা বা দুধে দারচিনি মেশালে হালকা মিষ্টি স্বাদ হয়, সুন্দর গন্ধও বার হয়। যদি স্বাদ খুব ফিকে বা ঝাঁঝালো লাগে,তবে বুঝবেন দারচিনি আসল নয়।
দারচিনি কীভাবে রাখবেন–গোটা দারচিনির টুকরোগুলি শুকনো ও পরিষ্কার এয়ারটাইট পাত্রে রাখুন। পাত্রটি গ্যাস, সিঙ্ক বা এমন কোনও জায়গা থেকে দূরে রাখুন, যেখানে আর্দ্রতা ও বাষ্প বেশি থাকে। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখলে মশলার গন্ধ ও গুণমান নষ্ট হয়ে যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণ দারচিনি বার করে নিন এবং ব্যবহারের পর পাত্রটি সঙ্গে সঙ্গে ভালোভাবে বন্ধ করে দিন
বাজারে বিভিন্ন ধরনের দারচিনি পাওয়া যায়। সিলন দারচিনি ও ক্যাসিয়ার মধ্যে কুমারিনের পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে। ক্যাসিয়ায় কুমারিনের পরিমাণ বেশি থাকে, সিলন দারচিনিতে কুমারিন অনেক কম। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কুমারিন খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তাই যদি প্রতিদিন দারচিনির চা, দারচিনি মেশানো জল বা কোনও ঘরোয়া টোটকায় দারচিনি খান, তাহলে পরিমাণ সীমিত রাখাই ভালো। বেশি দারুচিনি খেলেই যে বেশি উপকার পাওয়া যায়, এমনটা নয়।
(Feed Source: news18.com)
